ওয়ালটন-কে বলা হয় মিড রেঞ্জ বাজেট কিং। কেননা বেষ কয়েক বছর ধরেই স্বল্প মূল্যে মান সম্মত স্মার্টফোন বাজারজাত করে আসছে ওয়ালটন। সেই ধারাবাহিকতায় “এক্সপ্লোর দা এলিগেন্স” ট্যাগলাইন নিয়ে ওয়ালটন এবার বাজারে আনলো তাদের আরেকটি মিড রেঞ্জ বাজেট স্মার্টফোন প্রিমো আরএক্স৭। আর ইটি মূলত তাদের পূর্ববর্তী সাকসেসর প্রিমো আর আক্স ৬ এর আপগ্রেড ভার্সন।এই স্মার্টফোনটির বাজার মূল্য ধরা হয়েছে  ১৩৯৯৯ টাকা। তাহলে চলুন, কাল বিলম্ব করে করে দেখে নেই ওয়ালটন প্রিমো আর এক্স ৭ এর হ্যান্ডস অন রিভিউ।

একনজরে প্রিমো আর এক্স৭

  • ১৬ এবং ৫ মেগাপিক্সেল ডুয়াল ক্যামেরা (AI Camera)
  • ১৩ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা
  • ডুয়াল সাইড গ্লাস প্যানেল ডিজাইন
  • ৪ জিবি র‌্যাম এবং ৬৪ জিবি রম সাথে ২৫৬ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড সাপোর্ট সুবিধা
  • ১৯:৯ রেসিও সম্বলিত ৬.৩ ইঞ্চি আইপিএস ইনসেল প্রযুক্তির ডিসপ্লে
  • ৩৯০০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি

ফোনটির বক্সের ভেতর আপনি যা যা পাবেনঃ 

  • প্রিমো আরএক্স৭ ডিভাইস
  • একটি সিম ইজেক্টর পিন
  • একটি ট্রান্সপারেন্ট ব্যাক কভার
  • চার্জিং অ্যাডাপ্টার, ইউএসবি কেবল
  • প্রোটেকশন ফিল্ম(পেপার) এবং কিছু পেপার ওয়ার্কস।

 ডিজাইনঃ

Primo RX7 ডিভাইসে রয়েছে স্যান্ডউইচ গ্লাস ডিজাইন। যার মানে স্ক্রিনের ফ্রন্ট প্যানেল+রিয়ার প্যানেলেও পাবেন গ্লাস ব্যাক। আর উভয়পাশে এই গ্লাস স্ক্র্যাচ রেসিসট্যান্ট। পেছন থেকে দেখলে Primo RX7 এর ডিজাইন অনেকটা পি২০ প্রো এর মত। বাজারে ফোনটি পাওয়া যাবে দারুন দুটি কালারে, এগুলো হলোঃ অরোরা গ্রিন এবং মিডনাইট পারপেল।

ডিসপ্লেঃ

ফোনটিতে ১৯:৯ রেশিও সম্বলিত ডিসপ্লে দেয়া হয়েছে, যার ফলে ডিভাইসটিতে আপনারা পাবেন একেবোরে মিনিমাম বেজেল। এছাড়া ডিভাইসটিতে আরো রয়েছে ওয়াটার ড্রপ নচ, আর নচের মধ্যেই রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল এর সেলফি ক্যামেরা। প্রিমো আর এক্স ৭ এ  এতে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.৩ ইঞ্চি ইন-সেল আইপিএস ডিসপ্লে প্যানেল। আর সাধারণত ইনসেল ডিসপ্লে গুলো টাচ রেসপন্থ বেশি থাকে তুলনামুলক ভাবে।

Primo RX7 এর ডিসপ্লে রেজুলেসন ২৩৫০*১০৮০ পিক্সেল (ফুল এইচ.ডি প্লাস)। ডিভাইসটির ডিসপ্লে  ব্রাইটেনেস লেভেল ৪৫০ নিটস, যা এই বাজেটের স্মার্টফোন গুলোর মধ্যে বেশি। ডিসপ্লেতে ১০ আংগুল পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্ট করে।

হার্ডওয়্যারঃ 

Primo RX7 ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা হয়েছে এমটি৬৭৬৩ চিপসেট। এআরএম করটেক্স এ৫৩ (এমটি৬৭৬৩) চিপসেটকে স্ন্যাপড্রাগন ৬২৫ এর সাথে তুলনা করা যায়। এই অক্টাকোর প্রসেসরটির ক্লক স্পিড ২ গিগাহার্জ। এর সাথে থাকছে মালি জি৭১ এমপি২ জিপিইউ।

সাথে আরো রয়েছে ৪ জিবি র‌্যাম। যা মাল্টি টাস্কিং এর জন্য বেশ উপযোগী। ইন্টারনাল মেমোরী রয়েছে ৩২ জিবি, যা ২৫৬ জিবি পর্যন্ত এক্সটেন্ড করা যাবে।

PRIMO RX7 এর বেঞ্চমার্ক স্কোর এবং হার্ডওয়্যার তথ্য:

অপারেটিং সিস্টেম এবং ইউজার ইন্টারফেস:

Primo RX7 ডিভাইসটিতে প্রি-ইন্সটলড ভাবে অ্যান্ড্রয়েড এর লেটেস্ট পাই ৯.ও অপারেটিং সিস্টেম পাবেন। তাছাড়াও ফোনটি কিছুটা কাস্টমাইজড, ইউজার ইন্টারফেস অনেকটা পরিবর্তন করার সুযোগ পাবেন।

ক্যামেরাঃ

ক্যামেরার সেন্সর সাইজ বর্ণনা করার জন্য একটি নাম্বার থাকে, যেমন ১/৩.৩, ১/৩.৬ ইত্যাদি। সহজ ভাবে বুঝতে ১ ভগ্নাংশের সাথে যে নম্বর থাকবে তা যতো ছোট হবে আপনার সেন্সর সাইজ ততো বড় হবে। আর আপনার সেন্সর সাইজ যতো বড় হবে তো ভালো পিক্সেলস পাবেন। আর যত ভালো পিক্সেলস হবে ইমেজও তত বেশি আলো সম্বলিত এবং ঝকঝকে হবে। Primo RX7 এর মেইন ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সরটির সাইজ ১/৩.০৬ এটি স্মার্টফোনের হিসেবে তুলনামূলক বড় ক্যামেরা সেন্সর বলা চলে।

আবার f/1.8, f/2.0, f/2.2 ইত্যাদি নম্বর দিয়ে ক্যামেরার অ্যাপারচার প্রকাশ করা হয়ে থাকে। অ্যাপারচার এর মানে হচ্ছে লেন্সের ফোকাল লেন্থ। অ্যাপারচার নাম্বারে f ভগ্নাংশের পরে যে সংখ্যা থাকে সেটি যত ছোট হবে আপনার ক্যামেরার ওপেনিং ততই বড় হবে এবং ওপেনিং যত বড় হবে ক্যামেরা তত ভালো ভাবে লো লাইট ছবি উঠাতে পারবে। এবং যে শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট থাকে তাও ভালোভাবে দেখতে পাওয়া যাবে। শ্যালো ডেফত অফ ফিল্ড ইফেক্ট মানে, আপনি দেখেছেন যে ছবি উঠানোর সময় আপনার সামনে থাকা সাবজেক্ট এর ছবি পরিষ্কার হয় এবং সাবজেক্ট এর পেছনে ঘোলা ইফেক্ট থাকে, তো আপনার ক্যামেরার অ্যাপারচার নাম্বার যতো কম হবে এই ইফেক্ট ততো ভালো দেখতে পাওয়া যাবে।

Primo RX7 এর সেকেন্ডারি রিয়ার ক্যামেরার অ্যাপারচার f/2.0, সুতরাং এর মাধ্যমে আপনি দারুন সব ছবি তুলতে পারবেন, যেখানে ছবির কোয়ালিটি যেমন সুন্দর থাকবে, তেমনি সাবজেক্টকে ফোকাসে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ড ঘোলা করতেও সুবিধা হবে। আর এই ক্যামেরায় থাকা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রযুক্তি, ছবির বিষয় এবং পরিবেশ এর ওপর বিবেচনা করে নিজে থেকে ছবিতে কিছু ইন্টেলিজেন্স ইফেক্ট ও এডজাসমেন্ট প্রয়োগ করবে। ডুয়াল ক্যামেরা মডিউল এর সাথে থাকবে একটি ভালো মানের ফ্ল্যাশ।

এর সামনের ফ্রন্ট ক্যামেরায় পাওয়া যাবে ফেস ডিটেকশন অটোফোকাস প্রযুক্তি।Primo RX7 এর ফ্রন্ট প্যানেলে পাওয়া যাবে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

সিকিউরিটিঃ

ডিভাইসটির সিকিউরিটির জন্য রয়েছে ফিংগার প্রিন্ট সেন্সর। আর ডিভাইসটিতে আপানার পাবেন ৫ আংগুল পর্যন্ত ফিংগার প্রিন্ট সেইভ করা সুবিধা।

এছাড়া আরো রয়েছে ২ডি ফেস আইডি আনলক। এর ১৩ মেগাপিক্সেল দারুন একটি ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা থাকার কারনে ফেসআইডি ফিচার মোটামটি ভালই কাজ করবে।

ব্যাটারি

সম্পূর্ণ ডিভাইসকে ব্যকআপ দিবে একটি ৩৯০০ এমএএইচ এর লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি। আর এই ব্যাটারি ডিভাইসকে অন্তত ফুল চার্জএ সারাদিন ব্যকআপ দিতে পারবে।

১৪০০০ হাজার টাকার মধ্যে দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটন’এর এই স্মার্টফোনটিকে একটি ‘ফুল ফিচারড প্যাক’ বলা যায়। তাই এই বাজেটে যদি কেউ কোন ভালো স্মার্টফোন কেনার ব্যাপারে ভেবে থাকেন, তবে দেশীয় ওয়ালটন’এর এই প্রিমো আরএক্স৭ এর কথা চিন্তা করতে পারেন।