সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ, কেমন আছেন?

নিশ্চয়ই ভালো। আপনাদের সাথে স্মার্টফোনের রিভিউ করছি আমরা বেশ কিছুদিন ধরেই। আজকে আর স্মার্টফোনের রিভিউ করছিনা। আজকে আমরা সেমি মিড রেঞ্জ বাজেটের ২টি স্মার্টফোনের গঠন মুলক আলোচনা করবো। আমাদের আলোচনার মধ্যে থাকবে দুটো স্মার্টফোনের দাম, গঠন, হার্ডওয়্যার থেকে শুরু করে ক্যামেরা এবং আনুষাংগীক আরো কিছু বিষয়। আমাদের আজকের স্মার্টফোন কম্পারিজনে রয়েছে ওয়ালটন প্রিমো এইচ ৮ প্রো এবং আইটেল এস১৫ প্রো এর।

স্মার্টফোনের নাম এবং দাম
প্রিমো এইচ৮ প্রো আইটেল এস১৫ প্রো
৮৪৯৯ ৭৮৯০

ডিজাইন এবং বিল্ট কোয়ালিটি

ডিভাইস দুটিই প্লাস্টিক বিল্ট। তবে রিয়ার প্যানেলটা গ্লসি ফিনিশিং দেয়া হয়েছে। গ্লসি ফিনিশ হওয়ায় হাতের দাগ থেকে রক্ষা পেতে আপনাকে কভার ব্যবহার করতে হবে। ওয়ালটন এর সাথে আপনি সফট ট্রান্সপারেন্ট ব্যক কভার পাবেন এবং আইটেল এর সাথে আপনি হার্ড ট্রান্সপারেন্ট ব্যক কভার পাবেন। ওয়ালটন এর চাইতে আইটেল তুলনামুলক একটু বড়। তবে দুটি ডিভাইসই কার্ভ ডিজাইন, ফলে হ্যান্ড গ্রিপ বেশ আরামদায়ক। তবে প্রিমো এইচ৮ প্রো একটু ছোটো বলে আইটেল এর তুলনায় এটি আপনার হাতে বেশ ভালভাবে গ্রিপ করবে।  আর আইটেল একটু বড় হওয়ায় সিংগেল হ্যান্ড ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য হতে কয়েকদিন সময় লাগবে। দুটি ডিভাইসেই দুটি সিম এবং একটি এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন। আইটেল এর ব্যাকপার্ট রিমুভেবল হলেও, ওয়ালটন এর ব্যাকপার্টটি নন-রিমুভেবল।

ডিসপ্লে

দুটি ডিভাইসএই আপনি পাচ্ছেন নচ যুক্ত ডিসপ্লে। প্রিমো এইচ৮ প্রো’তে ব্যবহার করা হয়েছে ৫.৭১ ইঞ্চি ২.৫ডি এইচ ডি প্লাস আইপিএস “ইউ নচ” ডিসপ্লে, যার রেজুলেশন ১৫২০*৭২০ পিক্সেল। আইটেলে ব্যবহার করা হয়েছে ৬.০৮৮ ইঞ্চি এর “ওয়াটার ড্রপ নচ” আইপিএস ডিসপ্লে। যদিও আইটেল দাবি করে তাদের ডিসপ্লে ৬.০৮৮ ইঞ্চি, কিন্তু বিভিন্ন বেঞ্চমার্ক অ্যাপে এর ডিসপ্লে সাইজ দেখা গিয়েছে ৫.৯৯ ইঞ্চি।

ফোন এর লাইট অফ অবস্থায় ওয়ালটন এর ডিসপ্লে একদম কালো দেখা যায়, তবে আইটেল এর ডিসপ্লে একদম কালোর বদলে হালকা গ্রে দেখায়। আর এখানেই বোঝা যায় ডিসপ্লে দুটি ভিন্ন কোয়ালিটির। এছাড়া ওয়ালটন এর ডিসপ্লে আইটেল এর তুলনায় কালার, কনট্রাস্ট এর দিক থেকে ভিভিড এবং লাইভলি। তবে ভিউইং এঙ্গেল এবং সাইড বেজেল দুটো ডিভাইসেই কাছাকাছি। তবে আমার পার্সোনাল পছন্দ এখানে ওয়ালটনকে এগিয়ে রাখবে।

সিকিউরিটি

দুটো ফোনেই ক্যামেরা ফেস আনলক ফিচার পাওয়া যাবে। আর দুটো ডিভাইসেই প্রাইমারি সিকিউরিটি হিসেবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর তো থাকছেই। তবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট আনলকিং স্পিড ওয়ালটন এর তুলনায় আইটেল এর একটু ফাস্ট।

রিয়ার ক্যামেরা

ওয়ালটন এর রিয়ার প্যানেলে রয়েছে একটি সিঙ্গেল ক্যামেরা মডিউল এবং আইটেল এর রিয়ার প্যানেলে রয়েছে একটি ট্রিপল ক্যামেরা মডিউল। ট্রিপল ক্যামেরা সেটাপে রয়েছে যথাক্রমে ৮, ৫ এবং ০.৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সেন্সর। ক্যামেরা গুলোর মধ্যে রয়েছে একটি প্রাইমারি রিয়ার শুটার এবং আরেকটি ডেপ্থ সেন্সিং এর জন্য হলেও, বাকি ০.৮ মেগাপিক্সেল আদৌ কোন কাজ করে কিনা বোঝার উপায় আপাতত নেই। ওয়ালটনের রিয়ার প্যানেলে পাওয়া যাবে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। এখানে দুটো ক্যামেরার কালার সেন্সর ভিন্ন রকম। ওয়ালটন দিয়ে আপনি ন্যাচারাল কালারের খুব ভাল ছবি নিতে পারবেন, অন্যদিকে আইটেলে আপনি পাবেন ওয়ার্ম কালার টোন। তবে ওয়ালটন ডিভাইসের ভালো দিক হচ্ছে ডে লাইট এবং লো লাইটে আইটেল এর তুলনায় ওয়ালটনের ডিটেলস বেশ ভালো এবং কম নয়েজ লক্ষ্য করা গিয়েছে। স্পেসাল ফিচার হিসেবে আইটেলে রয়েছে পোট্রেইট মোড। ওয়ালটনের মোবাইলে পোর্ট্রেইট মোড না থাকলেও ওভারঅল আমি পিকচার কোয়ালিটির জন্য ওয়ালটনকে বেছে নেবো।

ফ্রন্ট ক্যামেরা

তবে ফ্রন্ট ক্যামেরার দিক দিয়ে আমার কাছে আইটেল এগিয়ে থাকবে, কেননা আইটেলের ফ্রন্ট প্যানেলে আমরা দেখাতে পাবো ১৬ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা, অন্যদিকে ওয়ালটনে থাকছে ৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা।

হার্ডওয়্যার

দুটো ডিভাইসেই অক্টাকোর চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে, এবং দুটোই ১.৬ গিগাহার্জ স্পিড সম্পন্ন। দুটোতেই পাওয়ার ভি.আর রগ জিই৮৩২২ জিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ওয়ালটনে পাওয়া যাবে ৩ জিবি র‌্যাম এবং আইটেলে পাওয়া যাবে ২ জিবি র‌্যাম।

আর  র‌্যাম বেশি হবার ফলে ওয়ালটন প্রিমো এইচ এইট প্রো-তে মাল্টিটাস্কিং এবং গেমিং এ অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে, ল্যাগ কম হবে। হালের জনপ্রিয় পাবজি গেম ওয়ালটনে সুন্দর ভাবে খেলা গেলেও, আইটেলে ল্যাগ পাচ্ছিলাম। এছাড়া অ্যাপ ওপেনিং স্পীডও ওয়ালটনের বেশি ফাষ্ট।

ইউজার ইন্টারফেস

দুটো ডিভাইসেই রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ৯.০ অপারেটিং সিস্টেম রয়েছে। সাথে রয়েছে কাস্টম ইউজার ইন্টারফেস।

সেন্সর
প্রিমো এইচ৮ প্রো আইটেল এস১৫ প্রো
লাইট, প্রক্সিমিটি এবং এক্সেলেরোমিটার এক্সেলেরোমিটার

পরিশেষে

ব্যাটারি এর দিক দিয়েও আইটেল এর চেয়ে আমার কাছে ওয়ালটন প্রিমো এইচ ৮ প্রো ভালো মনে হয়েছে, কেননা ওয়ালট প্রিমো এইচ ৮ প্রো-তে রয়েছে ৩৫২০ মিলি এ্যম্পিয়ার ব্যাটারি আর আইটেলে পাওয়া যাবে ৩০০০ এমএএইচ ব্যাটারি। কাজেই যারা সেইম বাজেটে ভালো মোবাইল ফোন কিনতে চান, আমার রিভিউ-টি ফলো করুন। আপনার কাজে লাগবে।