শেয়ার

নতুন স্মার্টফোন কিনবেন ভাবছেন? কি ফোন কিনবেন বা বাজেটের মধ্যে থাকবে কি না সেটাও তো খেয়াল রাখতে হবে। শুধু বাজেট হলেই চলবেনা, স্মার্টফোন-টিতে থাকতে হবে নিজের মত সব কিছু। আজকে আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম ১০ হাজার টাকার মধ্যে দারুণ একটি স্মার্টফোন, নাম Primo H6 Lite. ডিভাইসটির বিস্তারিত বিবরণে যাবার আগে চলুন জেনে নেই কি কি অপেক্ষা করছে আপনার জন্য।

৫.৫” ডিসপ্লে যুক্ত ডিভাইসটিতে রয়েছে ২ জিবি র‌্যাম, ১৬ জিবি বিল্ট ইন মেমোরী সহ ১৩ মেগাপিক্সেল অটোফোকাস ক্যামেরা। চলুন, এবার দেখে নেই ডিভাইসটির বিস্তারিত কনফিগারেশন।

ডিভাইসের নাম Primo H6 Lite
ডিসপ্লে ৫.৫” এইচ ডি ডিসপ্লে
প্রোটেকশন নেই
র‌্যাম ২ জিবি
রম ১৬ জিবি (১২৮ জিবি পর্যন্ত বাড়ানো যাবে)
সি.পি.ইউ ১.৩ গিগাহার্টজ কোয়াডকোর প্রোসেসর
জি.পি.ইউ মালি ৪০০
ক্যামেরা সেলফি: ৮ মেগাপিক্সেল উইথ ফ্ল্যাশ লাইট
রিয়্যার: ১৩ মেগাপিক্সেল
ব্যাটারি ২৭০০ মিলি এ্যম্পিয়ার
দাম ৯, ২৯০ টাকা।
Primo H6 Lite এর সাথে  আপনারা যে সকল জিনিস পাচ্ছেন তা হলো

** ইউজার ম্যানুয়্যাল সহ ওয়্যারেন্টি কার্ড।

** ইউ এস বি চার্যার এবং ডেটা ক্যাবল।

** ইয়ার ফোন

অপারেটিং সিস্টেম

Primo H6 Lite-এ রয়েছে এ্যন্ড্রয়েড লেটেষ্ট  ৭.০ নোগাট  অপারেটিং সিস্টেম।

ডিজাইন এবং বিল্ট কোয়ালিটি

Primo H6 Lite মূলত Primo H6 সিরিজের ৩য় ফোন। তবে এবারের ভার্সনটি শুধু মাত্র বাজেট বান্ধব হিসেবেই লঞ্চ করা হয়েছে। Primo H6 Lite-এর ফ্রন্ট প্যানেলে উপরের দিকে রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা। আর সাথে রয়েছে  ফ্রন্ট ফ্ল্যাশ লাইট।

ডিভাইসটির টাচ নেভিগেশন প্যানেলটি অন্যান্য ভার্সন থেকে বেশ আলাদা যা রয়েছে ডিভাইসটির একদম নিচের দিকে।বরাবরের মতই  ভলিউম রকার্স এবং পাওয়ার বাটন একসাথে পাশাপাশি রয়েছে ডিভাইসের উপরের দিকে ডান পাশে।

ইউ.এস.বি চার্জিং পোর্ট রাখা রয়েছে ডিভাইসটির একদম নিচের দিকে এবং অডিও জ্যাকপোর্ট বাটন রয়েছে একদম ডিভাইসের উপরের অংশে।

প্লাষ্টিক মেইড Primo H6 Lite এর ডিজাইন একদম সাদামাটা।  তবে যদি ডিভাইসটিত ২.৫ ডি কার্ভড গ্লাস ব্যাবহার করা হতো তবে ডিভাইসটির লুক আরো এ্যলিগেন্ট হতে পারতো।

ডিভাইসটির মেইন ক্যামেরা রয়েছে ব্যাক প্যানেলের উপরের দিকে। ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরার সাথে রয়েছে ফ্ল্যাশ লাইট।

ব্যাকপার্ট-টি রিমুভেবল এবং ব্যাটারি রয়েছে ২৭০০ মিলি এ্যম্পিয়ার। আরো রয়েছে ২টি সিম কার্ড স্লট। তবে ১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সটার্নাল মেমোরী কার্ড ব্যবহার করার দারুণ সুবিধা রয়েছে ইউজারদের জন্য।

মোবাইলটির দৈর্ঘ্য ১৫৪.৩ মিলিমিটার, প্রস্থ্য ৭৭ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব মাত্র  ৭.৯ মিলিমিটার। এছাড়া মোবাইলটির ওজন ব্যাটারি সহ ১৬০  গ্রাম।

চলুন, একটু মিলিয়ে নেই সব কিছু।

ডিসপ্লে এবং টাচ কোয়ালিটি

Primo H6 Lite’র ডিসপ্লে-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৫.৫”  এইচ.ডি আই.পি এস এল.সি.ডি ডিসপ্লে। ৭২০ পিক্সেল ডিসপ্ল যুক্ত ডিভাইসটির রেজুল্যুশন হলো ১২৮০ X ৭২০ পিক্সেল। ডিভাইসটিতে ১৬ .৭ মিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে। তবে ডিসপ্লের চার পাশে কালো রঙের বর্ডার থাকায় আমার কাছে কিছুটা অড্ লেগেছে। ওভারল টাচ রেছপঞ্ছ ভালো। আর এই মোবাইলের ডিসপ্লেতে ৫ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্ট করে।

সি পি ইউ এবং জি পি ইউ

Walton Primo H6 Lite এ ১.৩ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রোসেসর এবং মালি ৪০০ জি.পি.ইউ ব্যবহার করা হয়েছে যা মিড রেঞ্জের মোবাইলের জন্য যথেষ্ট।

র‌্যাম এবং রম

Walton Primo H6 Lite-এ রয়েছে ২ জিবি র‌্যাম এবং ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরী। ২জিবি র‌্যামের মধ্যে আপনারা ইউজার এ্যভেইলেবল র‌্যাম পাবেন ১.৯ জিবি পর্যন্ত। এছাড়া ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরীর মধ্যে আপনারা ইউজার এ্যভেইলেবল পাবেন প্রায় ১২ জিবি। তবে মেমোরী কার্ড ১২৮ জিবি পর্যন্ত ইউজ করার সুবিধা রয়েছে।

ইউজার ইন্টারফেস

Primo H6 Lite’র ইউজার ইন্টারফেসে ষ্টক নোগাটের আদলে তৈরী। এ্যপলিকেশন আইকন গুলো কাষ্টমাইজ করা। বরাবরের মতই এ্যপ ড্রয়ার এবং হোম স্ক্রিন আলাদা রাখা হয়েছে।

ক্যামেরা

Primo H6 Lite’র সেলফি ক্যামেরায় রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা উইথ ফ্ল্যাশ লাইট। সেলফি ক্যামেরা সম্পর্কে বলে রাখি, ক্যামেরা কোয়ালিট অনেক ভালো এবং মান সম্পন্ন। এছাড়া রিয়্যার প্যানেলে রয়েছে ফ্ল্যাশ লাইট সহ ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। ক্যামেরার কোয়ালিটি আমাকে বেশ অবাক করেছে। পিকচার শার্পনেস অনেক ভালো। তবে ডাইনামিক রেঞ্জে ছবি তুললে অন্যন্যা ব্র্যান্ড মোবাইলের তুলনায় ছবির কোয়ালিটি খুব-ই দূর্বল লেগেছে আমার কাছে। এছাড়া ইনডোর শ্যূটিং এর ক্যামেরা নয়েজ তুলনা মূলক কম ছিলো। চলুন এখন মোবাইল দিয়ে তোলা কিছু স্থির চিত্র দেখে নেই।

রিয়্যার ক্যামেরা:

ফ্রন্ট ক্যামেরা:

কানেক্টিভিটি ও সেন্সর

এই মোবাইলের কানেক্টিভিটির মধ্যে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লু-টুথ ভার্সন ৪, মাইক্রো ইউ এস বি ভার্সন ২, ওয়াই-ফাই হটস্পট ইত্যাদি। আর যে সকল সেন্সর ইউজ করা হয়েছে সে গুলো হলো এ্যকসেলোমিটার ৩ডি, লাইট সেন্সর, এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর।

ব্যাটারি ব্যাকাপ

এই মোবাইলে ব্যবহার করা হয়েছে ২৭০০ মিলি এ্যাম্পিয়ার লি-আয়ন রিমুভেবল ব্যাটারি। নরমাল ব্রাউজিং, গেমিং, কথা বলা সহ সকল কিছু করার জন্য ৭-৮ ঘন্টা ইজিলি ব্যাটারি ব্যাকাপ পাবেন।

বেঞ্চমার্ক স্কোর

মোবাইলের এ্যনটুটু বেঞ্চমার্ক স্কোর এসেছে ২৪,২১৫ এবং নেনামার্ক স্কোর এসেছে ৫৪.৪ এফ.পি.এস। 

দাম

এই মোবাইলের দাম ধার্য করা হয়েছে মাত্র ৯,২৯০ টাকা। মোবাইলের কনফিগারেশন অনুযায়ী দাম খুব-ই রিজোনেবল এবং হাতের নাগালে। 

সিদ্ধান্ত

দাম আর ফিচারের কথা যদি আমরা কেউ এখন চিন্তা করি, তাহলে আমার একান্ত অভিমত কেউ চাইলে আমি তাকে অবশ্যই এই মোবাইলটি কিনতে বলবো, কেননা এই দামে এই রকম ফিচার সমৃদ্ধ মোবাইল পাওয়া যাবে খুব কম-ই। 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

           

মন্তব্যসমূহ