শেয়ার

অনেক দাম দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন কিনেছেন, কিন্তু কয়দিন যেতে না যেতেই খেয়াল করলেন ফোন আর আগের মতো পারফর্মেন্স নাই, Slow হয়ে গেছে৷ এইটা ঠিক যে সময় পরিবর্তনের সাথে সাথে অ্যান্ড্রয়েড ফোন Slow হতে থাকে। 

চলুন যেনে নেই অ্যান্ড্রয়েড ফোন Slow হবার কারন গুলো !!!

১। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফোন শাট ডাউন বা রিবুট করেন না। কিন্তু ফোনের ক্যাশ ক্লিয়ারের জন্য সপ্তাহে অন্তত একদিন ফোন শাট ডাউন অথবা রিবুট করা উচিত।

২। অনেকেই মোবাইলের মেমরি ফুল না হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এক্সটার্নাল মেমরি কার্ড ব্যবহার করেন না। এতে করে মোবাইলের পারফরম্যান্সের ওপর প্রভাব পড়ে। ইন্টারনাল মেমরিতে খালি জায়গা যতো কমতে তাকবে, মোবাইলও ততোই স্লো হতে থাকবে। তাই মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা উচিৎ শুরু থেকেই।

৩।ফোন কেনার পর অনেক অ্যাপ্লিকেশন ইন্সটল করা হয়, এতে প্রচুর জাঙ্ক ফাইল, ক্যাশড ডাটা জমা হয়৷ ঐসব কারনে ফোনের গতি Slow হয়ে যায়৷

আজকে আপনাদের দেখাব কিভাবে আপনার Slow ফোনকে দিবেন দূর্দান্ত স্পিড যা আপনি ফোনটি কিনার পর পেয়েছিলেন
চলুন দেখে নেয়া যাক আমাদের কি কি করতে হবে এজন্য --
  • স্মার্টফোনটি আপডেট রাখুন সবসময়

প্রশ্ন আসতে পারে কোন ধরনের আপডেট৷ আসলে সব ধরনের আপডেটের কথাই বলছি৷ “আপডেট” মানেই হচ্ছে আপনার আগের তুলনায় নতুন কিছু সুবিধা যোগ করা৷ এতে আপনার ফোনের ল্যাগিং সমস্যা দূর হবে ৷ অ্যাপস, ফার্মওয়্যার, কার্নেল সবকিছু আপডেট রাখুন৷ এজন্য automatic update অন রাখুন৷ ফার্মওয়্যার আপডেটের সময় দ্রুতগতিসম্পন্ন ওয়াইফাই ব্যবহার করুন৷

এই আপডেট করার ফলে আপনার ডিভাইসের ল্যাগ ফিক্স হবে, স্মুথ পারফর্মেন্স পাবেন, ডিভাইসের ক্যাপাবিলিটি বৃদ্ধি পাবে৷ অনেক সময় এগুলো আপনার চোখে ধরা না পড়লেও আপনার স্মার্টফোনটিকে ত্রুটিমুক্ত রাখার জন্য সবসময় আপডেট করাটা খুবই জরুরি৷

  • অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস Uninstall করে ফেলুন

অনেক অ্যাপ ইন্সটল করেছেন৷ কিন্তু সব অ্যাপ তো আর প্রয়োজনীয় না৷ দেখা গেল আপনার ফোনে এমন অ্যাপও ইন্সটল করা আছে যেগুলো আপনি ৬ মাসে একবারও ওপেন করে দেখেন না৷ এইসব Unused app গুলো আপনার ফোনের RAM এর জায়গা দখল করে ফোনকে Slow করে দেয়৷ তাই এসকল অ্যাপ আনইন্সটল করে ফেলুন৷ প্রয়োজনে ব্যাকআপ রেখে নিবেন যাতে পরবর্তীতে যখন দরকার হবে তখন ইন্সটল করে ব্যবহার করতে পারেন৷

  • হোম স্ক্রিন ফাঁকা রাখার চেষ্টা করুন

অনেক অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন যেমন অধিকাংশ স্যামসাং ডিভাইসগুলোতে হোমস্ক্রিনে বিভিন্ন রকম উইজেট (Widgets) বা app shortcuts দিয়ে পূর্ণ থাকে৷ এসব উইজেট বা শর্টকাটগুলো আপনার ফোনকে ল্যাগি করতে পারে৷ তাই এগুলো হোমস্ক্রিন থেকে রিমুভ করে দেয়াই ভাল৷ হোম স্ক্রিন যত বেশি ফাঁকা রাখবেন, আপনার স্মার্টফোনটি তত বেশি স্মুথ পারফর্মেন্স আপনাকে উপহার দিবে৷

তাছাড়া অনেকে লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করেন৷ এটিও ফোন Slow করতে পারদর্শী ৷ তাই লাইভ ওয়ালপেপার না রেখে স্থির কোন ছবি রাখুন দেখবেন আপনার স্মার্টফোনটি আগের চেয়ে দ্রুতগতিতে আপনাকে সার্ভিস দিচ্ছে৷

  • ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি রাখুন

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ইন্টারনাল মেমরি পরিমান কমে গেলে আপনি ল্যাগ অনুভব করতে পারেন৷ তাই সবসময় চেষ্টা করবেন ইন্টারনাল মেমরি ফাঁকা রাখতে৷ ইন্টারনাল মেমরিতে থাকা গান, ভিডিও, অ্যাপ, গেমস, ফটো এগুলো এক্সটারনাল মেমরিতে রপ্তানি করে দিন 😀 মানে ট্রান্সফার করে দিন আরকি ৷ তাহলে আপনি পাবেন ঝামেলামুক্ত পারফরমেন্স ৷

  • স্মার্টফোনটি রিবুট করুন

কি হাসছেন? মনে বলছেন ভাউ রিবুট করলে কি আর সেট ফাস্ট হইব? হ্যাঁ হবে৷ যদিও ক্ষণস্থায়ীভাবে এটি ফাস্ট করবে, তারপরেও এইটা অনেকসময় খুব কাজ করে৷ ধরেন হটাৎ ফোনটা Slow কাজ করছে কিংবা টাচ ঠিকমতো কাজ করছে না৷ একটা রিবুট দিয়ে দেন৷ ব্যাস দেখবেন আবার ঠিকঠাকভাবে চলছে৷

যারা রিবুট মানে জানেন না, তাদের বলছি – কম্পিউটারে যেমন রিস্টার্ট আছে রিবুট আছে আপনার হ্যান্ডসেটে৷ মানে সেটটি অফ করে অন করুন 🙂

  • ফ্যাক্টরি রিসেট করুন

রিসেট কথাটির অর্থ হলো পুনঃস্থাপন৷ অর্থাৎ আপনার সেটটি কেনার পর প্রথমে কেনার পর যেমন ফাস্ট আর ল্যাগবিহীন ছিল ফ্যাক্টরি রিসেট দেয়ার পর ঠিক অমনটাই হয়ে যাবে৷ আর আপনি পাবেন নতুন ফোনের মতই স্মুথ পারফরমেন্স৷

ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে আপনার মোবাইলের ডাটা ফাইলগুলো ডিলিট হওয়ার (এতে কোন সমস্যা নাই) সাথে সাথে ইন্টারনাল স্টোরেজে থাকা সমস্ত কন্টাক্ট, ম্যাসেজ, পরবর্তীতে ডাউনলোড করা অ্যাপ, ক্যালেন্ডারের ইভেন্ট, নোটস… এসকল কিছু ডিলিট হয়ে যাবে৷ তাই রিসেট দেয়ার আগে প্রযোজনীয় সকল কিছুর ব্যাকআপ নিয়ে রাখবেন৷ অবশ্য সিঙ্ক্রোনাইজেশন অন রাখলে অটোমেটিক ব্যাকআপ হয়ে যায় গুগলে৷

  • ডেভেলপার অপশন চালু করুন

অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের গতি কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে এর অ্যানিমেশন৷ ডেভেলপার অপশন চালু করে এই অ্যানিমেশন আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন৷ এজন্য আপনার ফোনের Settings > About phone এ গিয়ে Build number অপশনে ৭ বার পরপর গুতা দিতে হবে :p মানে সাত বার ট্যাপ করবেন৷ তাহলেই আপনার ফোনের জন্য Developer options নামের একটা ফোল্ডার পেয়ে যাবেন৷

Developer options এ গিয়ে আগে Developer options অ্যাক্টিভেট করুন ৷ তারপর নিচের দিকে একটি অপশন দেখতে পাবেন যার নাম Window animation scale. সাধারনত অ্যানিমেশন স্কেল 1x এ সেট করা থাকে৷ আপনি এটাকে .5x করে দিন৷ চাইলে off করে দিতে পারেন কোন সমস্যা হবে না৷ ব্যাস কাজ শেষ৷

একইভাবে আপনি Transition animation scale, Animator duration scale ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন৷

  • রুট করে ফেলুন

রুট করা মানে সেটের অ্যাডভান্স কাজের সুযোগ পাওয়া এবং সেই সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফোনের পারফরমেন্স Slow থেকে আরও fast করা যায়৷ সময়ের সাথে সাথে রুটিং প্রসেসটি অনেক সহজ সহজ হয়ে উঠেছে৷ এখন এক মিনিটেই রুট-আনরুট করে ফেলা যায়৷

রুট হেল্প গাইড-এখানে ক্লিক করুণ
কিভাবে এক মিনিটে রুট করবেন তা জানতে (এই) লিংকে গুতা দেন!
কিভাবে এক মিনিটে আনরুট করবেন সেটা জানতে (এই) লিংকে গুতা দেন!

রুট তো করে ফেললেন, এখন স্পিড বাড়াবেন কিভাবে এমন প্রশ্ন নিশ্চয়ই মনের মধ্যে উঁকিঝুকি মারতাছে? চলুন দেখে নেই রুট করে কিভাবে ফোনকে ফাস্ট করতে পারবেন —

  • ওভারক্লকিং এর মাধ্যমে

রুট করার পর আপনি CPU এর গতি বাড়াতে পারবেন ওভারক্লকিং এর মাধ্যমে৷ Overclocked CPU নরমাল CPU থেকে ভাল ফাস্ট হবে নাম দেখেই বুঝতে পারছেন৷ SetCPU অথবা Android Overclock এর মতো অ্যাপ দিয়ে ওভারক্লক করে অ্যান্ড্রয়েডের গতি বৃদ্ধি করা যাবে৷

  • অপ্রয়োজনীয় সিস্টেম অ্যাপ মুছে ফেলুন

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের স্টক ফার্মওয়্যার মানে সেটে যেটি বিল্ট ইন অবস্থায় দেয়া থাকে সেই রমে অনেক প্রি-ইন্সটলড অ্যাপ থাকে যা ব্যবহার না করলেও চলে৷ রুট করার ফলে ডিভাইসের এডমিনিস্ট্রেশন ক্ষমতা আপনার কাছে থাকে ফলে আপনি চাইলেই সেগুলো আনইন্সটল করে ফেলতে পারবেন৷ যার ফলশ্রুতিতে আপনার স্মার্টফোনটি হয়ে উঠবে আরো স্মুথ আর ফাস্টার!

  • কাস্টম রম ব্যবহার করতে পারেন

রুট করার পর আপনি আপনার স্টক রম থেকে বের হয়ে গিয়ে নিজের পছন্দমত কাস্টমাইজ করা রম ব্যবহার করতে পারবেন৷ কাস্টম রমের মাধ্যমেও আপনি ফোনের গতি বৃদ্ধি করতে পারবেন৷ কারন ডেভেলপাররা কাস্টম রম এমনভাবে তৈরি করেন যাতে কোন প্রকার অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস থাকে না৷ তাই কাস্টম রম ফোনের RAM কলাপসও করে কম৷ তাছাড়া কাস্টম রম ব্যবহারে স্মার্টফোনের কিছু বাগ থাকলে সেটাও ফিক্স করে দেয়৷ ফলে স্মার্টফোনটি হয় স্মুথ ৷

মনে রাখতে হবে এটি একটি অ্যাডভান্স ইউজারের কাজ এবং ঝুঁকিপূর্ণও বটে৷ কারণ মাঝে মাঝে কাস্টম রমগুলাতেও বাগ থাকে এবং স্ট্যাবল হয় না৷ আবার কাস্টম রম ঠিকমত ইন্সটল করতে না পারলে সেট ব্রিক করতে পারে৷ তাই ভালমতো রম ইন্সটলের পদ্ধতি জেনে নিয়ে কাস্টম রম ব্যবহার করা উচিত৷

 

সবশেষে কিছু অ্যাপ এর নাম দিলাম যা দিয়ে আপনার ফোনকে Slow থেকে fast করতে সাহায্য করবে৷

  • Speed Booster Pro

অ্যাপটা অনেক কাজের একটা অ্যাপ৷ এটি দিয়ে আপনি ফোনের ক্যাশড ডাটা ক্লিয়ার করতে পারবেন, ফলে ইন্টারনাল স্টোরেজ বৃদ্ধি পায়৷ আর এটি সিপিউর পাওয়ার কম খরচ করে ফোনকে ল্যাগবিহীন করতে সাহায্য করে৷ডাউনলোড লিংক

  • Link2sd

এই অ্যাপটি অনেক প্রয়োজনীয় একটা অ্যাপ৷ এর সাহায্যে আপনি ইন্টারনাল মেমরিতে ইন্সটল থাকা অ্যাপগুলো এক্সটারনাল মেমরিতে ট্রান্সফার করতে পারবেন৷ এতে ইন্টারনাল স্টোরেজ খালি হবে ফলে ফোনটি দ্রুত কাজ করবে৷ রুটেড ইউজারদের জন্য সিস্টেম অ্যাপগুলোও এক্সটারনাল মেমরিতে ট্রান্সফার যাবে৷ 

  • Juice defende

অ্যাপটি অনেক কাজের একটা অ্যাপ৷ এটি আপনার ফোন লক থাকা অবস্থায় কোন অ্যাপ্লিকেশন চালু হতে বাধা দিবে ফলে ফোনের স্মুথনেস বাড়ার পাশাপাশি ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়বে৷ 

  • Startup Manage

Startup Manager দিয়ে আপনি ফোন স্টার্ট হওয়ার সময় কোন কোন অ্যাপ অন হবে আর কোন কোন অ্যাপ বন্ধ থাকবে সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন৷ 

বিঃদ্রঃ প্রথম সাতটি টিপসে কাজ হয়ে গেলে মানে মোবাইল যদি আগের চেয়ে ফাস্ট হয়ে যায় আর রুট সম্বন্ধে ভাল ধারনা না থাকে তাহলে রুট করার প্রয়োজন নেই ৷

 

মন্তব্যসমূহ