শেয়ার

পিউর ক্ল্যাসিক বলতে যা বোঝায় ওয়ালটনের মধ্যে তার সবকিছুই রয়েছে। স্মার্টফোনের কথাই ধরুন না, কি নেই ওয়ালটনের স্মার্টফোনে। একেবারে লো-রেঞ্জ থেকে শুরু করে ফ্ল্যাগশিপ মোবাইল পর্যন্ত সব বাজেটের স্মার্টফোন-ই রয়েছে ওয়ালটনের। স্মার্টফোন মানেই এখন কম্পিটিটিভ বাজার। সহনশীল দামে যত ফিচার পাওয়া যায়, সেই স্মার্টফোন-ই বেশি সমাদৃত এখন। আজকে এমন একটা স্মার্টফোন নিয়ে কথা বলবো যেটি সমসাময়ীক যে কোন স্মার্টফোনের সাথে টক্কর দিতে সক্ষম। ডিভাইসটির নাম Walton Primo H6+

৪জি সাপোর্টেড Primo H6+ ডিভাইসটি এ্যন্ড্রয়েড নোগাট ৭.০ চালিত। ডিভাইসে রয়েছে ২.৫ ডি ৫.৫” এইচ.ডি আই.পি.এস ডিসপ্লে, ৩ জিবি র‌্যাম, ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর সহ আরো অনেক কিছু। ডিভাইসটির লুকস বাড়িয়ে দেবার জন্য ডিভাইসটিকে করা হয়েছে সম্পূর্ণ মেটালিক। দাম রাখা হয়েছে হাতের নাগালেই, মাত্র ১১,৯৯০ টাকা। চলুন দেখে নেই ডিভাইসটির এক নজর স্পেসিফিকেশন

                                       বিবরণ
                                  Primo H6+
ডিসপ্লে ২.৫ ডি ৫.৫” এইচ.ডি ডিসপ্লে
প্রোটেকশন গরিলা গ্লাস ৩
র‌্যাম ৩  জিবি
রম ১৬ জিবি (১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সপ্যান্ডেবল
ক্যামেরা রিয়্যার ১৩ মেগাপিক্সেল
ফ্রন্ট ৮ মেগাপিক্সেল
প্রোসেসর ১.৩ গিগাহার্টজ কোয়াডকোর প্রোসেসর
ব্যাটারি ৩০০০ মিলি এ্যম্পিয়ার (নন রিমুভেবল)
মূল্য ১১,৯৯০ টাকা।

 

মোবাইলটির সাথে আপনারা যে সকল জিনিস পাচ্ছেন তা হলো

** ইউজার ম্যানুয়্যাল ও ওয়্যারেন্টি কার্ড।

** ইউ এস বি চার্যার উইথ ডাটা কেবল

** ইয়ার ফোন

** সিম ইজেক্টর

অপারেটিং সিস্টেম

ডিভাইসটিতে রয়েছে এন্ড্রয়েড নোগাট ৭.০ অপারেটিং সিস্টেম

ডিজাইন এবং বিল্ট কোয়ালিটি

সম্পূর্ণ মেটালের তৈরী ডিভাইসটি ম্যাট ব্ল্যাক পলিশ হওয়াতে ডিভাইসের লুক একদম প্রিমিয়াম। ৫.৫” ডিসপ্লের একদম উপরের দিকে রয়েছে যথাক্রমে ৮ মেগাপিক্সেল সেলফি ক্যামেরা, ফ্ল্যাশ লাইট এবং প্রক্সিমিটি সেন্সর।ডিভাইসের নিচের দিকে রয়েছে ক্যাপাসিটিভ টাচ প্যানেল।ডিভাইসের ডান পাশে বেজেল ঘেষে রয়েছে ভলিউম রকার্স বাটন এবং পাওয়ার বাটন।সিম কার্ড ট্রে রয়েছে ডিভাইসের বাম পাশে উপরের দিকে।লাউড স্পিকার এবং মাইক্রো ইউ.এস.বি পোর্ট রয়েছে একদম নিচের অংশে।ডিভাইসটির ব্যাক প্যানেলের উপরে এবং নিচের দিকে রয়েছ এ্যন্টেনা ব্যান্ড যা ডিভাইসটির ব্যাক প্যানেল এনরাউন্ড হয়ে বেজেল বরাবর মিশেছে।ব্যাক প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল অটোফোকাস ক্যামেরা। ক্যামেরার নিচের দিকে ফ্ল্যাশ লাইটের পাশাপাশি রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর।মোবাইলটির দৈর্ঘ্য ১৫৪.৪ মিলিমিটার, প্রস্থ্য ৭৮.৭ মিলিমিটার এবং পুরুত্ব মাত্র  ৯.১ মিলিমিটার। এছাড়া মোবাইলটির ওজন ব্যাটারি সহ ১৯০  গ্রাম।একটু মিলিয়ে নেই উপরের আলোচনা গুলো।

ডিসপ্লে এবং টাচ কোয়ালিটি

Walton Primo H6+ এর ডিসপ্লে-তে ব্যবহার করা হয়েছে ৫.৫”এইচ.ডি আই পি এস ডিসপ্লে। ২.৫ ডি কার্ভড ডিসপ্লের রেজুল্যুশন হলো ১২৮০ X ৭২০ পিক্সেল। আর মোবাইলের ডিসপ্লেতে ১৬ মিলিয়ন কালার সাপোর্ট করে। ডিসপ্লের প্রোটেকশনের জন্য রয়েছে গরিলা গ্লাস ৩। ডিভাইসটিতে আপনারা ফুল এইচ ডি ভিডিও (১০৮০x১৯২০ পিক্সেল) ভিডিও দেখতে পারবেন কোন প্রকার ল্যাগিং ছাড়া। এই মোবাইলের টাচ দারুন এবং রেসপন্সিভ। কোন ল্যাগিং পাইনি। আর এই মোবাইলের ডিসপ্লেতে ৫ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্ট করে।

সি পি ইউ এবং জি পি ইউ

Walton Primo H6+ এ ব্যবহার করা হয়েছে ৬৪ বিট ১.৩ গিগাহার্টজ কোয়াড কোর প্রোসেসর। এছাড়া Primo H6+ এ জি.পি.ইউ রয়েছে মালি টি৭২০, বলা বাহুল্য এই জি.পি.ইউ গেমিং এবং মাল্টি টাস্কিং এর জন্য বেশ উপযোগী।

র‌্যাম এবং রম

Primo H6+ এ রয়েছে ৩ জিবি ডিডিআর ৩ র‌্যাম এবং ১৬ জিবি ইন্টারনাল মেমোরী। এছাড়া ১২৮ জিবি পর্যন্ত এক্সটার্নাল মেমোরী স্লট ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে।

ইউজার ইন্টারফেস

ডিভাইসটিতে পাবেন ষ্টক নোগাটের আমেজ। খুব একটা নতুনত্ব নেই ডিভাইসটির ইউজার ইন্টারফেসে। আমি ব্যক্তিগত ভাবে এ্যমিগো ইউজার ইন্টারফেসের খুব ভক্ত। ষ্টক ইউজার ইন্টারফেসের বদলে এ্যমিগো ইউ.আই দিলে কিন্তু মন্দ হতো না। তবে আশাহত হবার কিছু নেই। ষ্টক ইউ.আই খুব-ই স্মুদ, ট্র্যানজিশন ছিলো ফাষ্ট এবং রেছপঞ্ছিভ।

ক্যামেরা

মোবাইলে রয়েছে ১৩ মেগাপিক্সেল বি.এস.আই সেন্সর যুক্ত অটোফোকাস রিয়্যার ক্যামেরা। ক্যামেরায় রয়েছে শক্তিশালী ফ্ল্যাশ লা্ইট।ডিভাইসটি দিয়ে তোলা ছবির কোয়ালিটি যথেষ্ট্য মান সম্মত। সেলফি তোলার জন্য রয়েছে ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা উইথ ফ্ল্যাশ লাইট। এছাড়া  Walton Primo H6+ এর রিয়্যার ক্যামেরা দিয়ে ফুল এইচ ডি রেজুল্যুশনে (১০৮০X১৯২০ পিক্সেল) ভিডিও করতে পারবেন। চলুন ডিভাইসটি দিয়ে তোলা কিছু ছবি দেখে নেই।

রিয়্যার ক্যামেরা:

ফ্রন্ট ক্যামেরা:

কানেক্টিভিটি ও সেন্সর

এই মোবাইলের কানেক্টিভিটির মধ্যে রয়েছে ওয়াই-ফাই, ব্লু-টুথ ভার্সন ৪, মাইক্রো ইউ এস বি ভার্সন ২, ওয়াই-ফাই হটস্পট, ও.টি.জি, ও.টি.এ প্রভৃতি।

আর যে সকল সেন্সর ইউজ করা হয়েছে সে গুলো হলো এ্যকসেলোমিটার ৩ডি, লাইট সেন্সর, জাইরোস্কোপ, গ্র্যাভিটি, রোটেশন ভেকটর, লিনিয়ার এ্যকসেলেরেশন, প্রক্সিমিটি, কম্প্যাস এবং বায়োমেট্রিক ফিংগার প্রিন্ট।

গেমিং পারফরমেন্স

আগে মানুষ মোবাইল ক্রয় করতো কথা বলার জন্য। আর এখন মানুষজন মোবাইল কেনে ক্যামেরা আর হাই রেজুল্যুশনের গেম খেলার জন্য। আপনারা ইতি মধ্যেই জেনেছেন এই মোবাইলের প্রসেসর আর র‌্যাম নিয়ে। আমি নিজে এই মোবাইলে মডার্ন কম্ব্যাট সহ ফিফা ১৫-১৬, এসফাল্ট ইত্যাদি গেমস খেলেছি। বিন্দুমাত্র ল্যাগিং পাইনি।

ব্যাটারি ব্যাকাপ

এই মোবাইলে ব্যবহার করা হয়েছে ৩০০০ মিলি এ্যাম্পিয়ার লি-আয়ন নন-রিমুভেবল ব্যাটারি। নরমাল ব্রাউজিং, গেমিং, কথা বলা সহ সকল কিছু করার জন্য এই ব্যাটারি ব্যাকাপ দিয়ে ৭-৮ ঘন্টা ইজিলি ব্যাটারি ব্যাকাপ পাবেন।

স্পেশাল ফিচারস

ও টি এ এবং ও.টি.জি

এই দুটো ফিচার সম্পর্কে আপনার এখন আর বিষদ বর্ণনা দিতে হবেনা মনে হয়। কেননা এই ফিচার গুলো আমার আগের রিভিউ-এর বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আপনার মোবাইল অনলাইন আপডেট এর জন্য ও টি এ একটি বিশেষ সুবিধা যা বিশ্বের সকল স্মার্টফোনেই রয়েছে। আর ও টি জি কি বা এর কাজ কি, এটা তো আপনারা ইতিমধ্যেই আমার রিভিউ এর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। মোবাইলে মাউস, কি-বোর্ড, পেন ড্রাইভ ইউজ করতে পারবেন।

ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর:

ডিভাইসটি ০.৩ সেকেন্ডে আনলক করতে পারবেন এর রিয়্যার মাউন্ডেট ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর দিয়ে। 

মিরাভিশন ডিসপ্লে:

ডিসপ্লের ব্রাইটনেস চোখের উপযোগী এবং ডে লাইট উপযোগী করার জন্য রয়েছে মিরা-ভিশন প্রযুক্তি। ফলে ডিসপ্লে কাষ্টমাইজেশন করে সিচুয়েশন অনুযায়ী ডিভাইসের ব্রাইটনেস সেটিং করে নিতে পারবেন।

ব্যাটারী সেভার:

ডিভাইসটির ব্যাটারি ব্যাকাপ বারানোর জন্য রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটারি সেভার। ফলে দরকারী মূহুর্তের জন্য ডিভাইসটির ব্যাটারি ব্যাকাপ কনজিউম করে রাখতে পারবেন।

ডুরা স্পিড:

ধরুন, আপনার ডিভাইসের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনেক এ্যপস রান করছে। কিন্তু আপনি চাইছেন অপ্রয়োজনীয় এ্যপস গুলো ব্যকগ্রাউন্ড থেকে ডিজ্যাবল করতে। ঝামেলার কিছু নেই। ডুরা স্পিড অন করে ব্যাকগ্রাউন্ডের অপ্রয়োজনীয় এ্যপস গুলো বন্ধু করে নিতে পারবেন।

মাল্টি উইন্ডো:

মাল্টি টাস্কিং এর জন্য Primo H6+ এর রয়েছে দারুন সুবিধা। ২টি দরকারী এ্যপস পাশাপাশি রান করতে চাইলে ডিভাইসের নিচের রিসেন্ট ফাংশন থেকে দরকারী যে কোন ২টি এ্যপস হাত দিয়ে ড্রাগ করে নিলেই মাল্টি টাস্কিং করতে পারবেন।

বেঞ্চমার্ক

আমরা Primo H6+ এর বেঞ্চমার্ক টেষ্ট করেছি। ডিভাইসটির এ্যন্টুটু স্কোর এসেছে ২৮০১৬ এবং নেনামার্ক স্কোর এসেছে ৫৪.৪ এফ.পি.এস। আমরা গিকবেঞ্চ টেষ্টও করেছি। চলুন এক নজরে দেখে নেই মোবাইলের স্কোর গুলো।

দাম

এই মোবাইলের দাম ধার্য করা হয়েছে মাত্র ১১,৯৯০ টাকা।

সিদ্ধান্ত

দাম আর ফিচারের কথা যদি আমরা কেউ এখন চিন্তা করি, তাহলে আমার একান্ত অভিমত কেউ চাইলে আমি তাকে অবশ্যই এই মোবাইলটি কিনতে বলবো, কেননা এই দামে এই রকম ফিচার সমৃদ্ধ মোবাইল পাওয়া যাবে খুব কম-ই। ডিভাইসটি হাতে নিয়ে দেখলে আর ফিচারের কথা চিন্তা করলে এই বাজেটে এই মোবাইলটি হতে পারে একটি আদর্শ মোবাইল।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্যসমূহ