শেয়ার

আসসালামু আলাইকুম ৷ আশা করি সবাই ভাল আছেন ৷ অ্যান্ড্রয়েড ইউজার হিসেবে আমরা সবাই PROCESSOR, ROM এবং RAM এই তিনটি শব্দের সাথে খুবই পরিচিত ৷ এই তিনটির উপর ভিত্তি করেই আমাদের সবার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস কেনা হয় ৷ আজকে এই তিনটি শব্দের মানে চলুন সংক্ষেপে জেনে নেই ৷

PROCESSOR কী?

প্রসেসর হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মস্তিষ্ক ৷ সহজ কথায় অ্যান্ড্রয়েডের সকল কাজ কর্ম যার মাধ্যমে প্রসেস হয় তাই প্রসেসর ৷ অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিভিন্ন ধরনের প্রসেসর রয়েছে ৷ বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন নামে প্রসেসর তৈরি করে ৷ যেমনঃ স্যামসাংয়ের Exynos, কোয়ালকমের Snapdragon ইত্যাদি ৷

আবার যে কাজগুলো প্রসেস করতে পারে সেগুলোকে বলে ইন্সট্রাকশন সেট ৷ 32 bit এবং 64 বিট প্লাটফর্মের বিভিন্ন রকমের ইন্সট্রাকশন সেট রয়েছে ৷ যেমন ARMv6, ARMv7, ARMv8 ইত্যাদি ARM ভার্শনের ইন্সট্রাকশন সেট ব্যবহার করা হয় ৷ ইন্সট্রাকশন এর তথ্য আপনার ফোনের স্পেসিফিকেশনেই পেয়ে যাবেন ৷ এর সাথে Processor Architecture (যেমন Cortex A15) ও প্রসেসরের প্রসেস এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ৷

আবার Processor এ আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোর (Core). কোরের কাজ হল প্রসেসরের ইন্সট্রাকশন নিয়ে সেই অনুযায়ী কাজ করা ৷ প্রথমে একটি কোর দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে dual core, quad core, hexa core, octa core প্রসেসর রয়েছে যেগুলো যথাক্রমে ২টি, ৪টি, ৬টি এবং ৮টি কোর বিশিষ্ট প্রসেসর ৷ কোর এবং আর্কিটেকচার সমন্বিতভাবে একটি অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে করে তোলে Super Fast !

ROM কী?

ROM এর পূর্ণরূপ Read Only Memory. বাংলা করলে এর অর্থ হয় “কেবল পাঠযোগ্য মেমরি” ৷ এটি হচ্ছে ডিভাইসের স্থায়ী মেমরি বা স্মৃতি যা কখনো পরিবর্তন হবে না ৷ মানে এই মেমরিতে যা একবার কিছু ইনপুট করে দেয়া হবে সেটা আপনি সারাদিন হাতুরি দিয়ে পিটাইলেও পরিবর্তন হবে না  মানে যদি ডিভাইস বন্ধ করে ফেলেন তাও এর কোনরূপ পরিবর্তন হবে না ৷ আর করতে হলে আবার অনেক ভেজাল করতে হয় ৷ এ ধরনের মেমরিকে “নন-ভোলাটাইল” নামের গালভরা নামেও ডাকা হয় ৷ 

ফোন কিনার সময় দেখা যায় ৮ জিবি, ১৬ জিবি ROM ৷ এর মধ্যে কিনে আনার পর দেখেন এর মধ্যে ৪-৫ জিবিই সিস্টেম ফাইল ৷ আর এই সিস্টেম ফাইলগুলোই হলো রম যা চেঞ্জ করা যাবে না ৷ অবশ্য রুট করে অ্যাডভান্সড ইউজাররা এই ROM কেও চেঞ্জ করে ফেলেন ৷ তাদের কথা আমরা আপাতত না বলি 

আবার ROM মানে শুধু সিস্টেম ফাইল না ৷ রমের মধ্যে থাকে Baseband, Input recognition, Driver সহ আরো অনেক কিছু যা রুট করে কাস্টম রম ফ্লাশ করলেও চেঞ্জ হবে না ৷ ওগুলো বাইনারি সংখ্যার মাধ্যমে কাজ করে ৷ তবে ফার্মওয়্যার ফ্ল্যাশ করে এগুলোকে পরিবর্তন করা যায় ৷ অনেক কথা হইছে এখন চলেন RAM কি সেটা বুঝি ৷

RAM কী?

RAM এর পূর্ণরূপ হল Random Access Memory. কম্পিউটারের মতো অ্যান্ড্রয়েডেও RAM একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ৷ এটি হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী মেমরি ৷ অ্যান্ড্রয়েডে কোন কাজ করার সময় প্রয়োজনীয় যে সকল হিসাব নিকাশ অর্থাৎ ডাটা প্রয়োজন হয় তা সবকিছু RAM এ জমা হয় ৷ আবার কাজ শেষ হওয়ার পর জমে থাকা ঐ সকল ডাটা, যেটাকে আমরা Cache নামে চিনি সেগুলো মুছে যায় ৷ আর RAM যেমন নন-ভোলাটাইল মেমরি, ROM হচ্ছে ঠিক তার উল্টোটা ৷ অর্থাৎ “ভোলাটাইল” মেমরি

অ্যান্ড্রয়েডে যে হারে কাজ Process করা হয় সেই হারে ডাটা মেমরিতে দিতে পারে না ৷ তাই আগে এই ডাটাগুলো RAM এ যায় যাতে অনেক দ্রুত কাজ করতে পারে ৷ তাহলে বুঝতেই পারছেন, যত বেশি RAM এর স্পেস থাকবে তত বেশি ডিভাইস ফাস্ট হবে, অকা?

কাজ করতে করতে যখন আমাদের RAM এর জায়গা ফুল হয়ে যায় তখন আমাদের ইন্টার্নাল অথবা এক্সটার্নাল মেমরিতে ডাটা ফাইলগুলো জমা হয় ৷ কিন্তু ঐ মেমরি তো আর RAM এর মতো ফাস্ট না, তাই তখন আমাদের ফোন ল্যাগ করতে থাকে ৷ এখন নিশ্চয়ই চিন্তা করছেন যে এক্সটার্নাল মেমরিকে যদি RAM হিসেবে ইউজ করতে পারতাম :v

Processor, Rom আর Ram তো বিস্তারিত জানলাম ৷ সহজভাবে এই তিনটার কথা চলেন মনে রাখি

মনে করেন আপনি কোন লাইব্রেরীতে গেছেন বই পড়তে ৷ আপনি কী করবেন? প্রথমে যে বইটা পড়বেন সেটা সেলফ থেকে নামাবেন, তারপর বই খুলবেন ৷ তারপর পড়াশুনা শেষ করে আবার আগের জায়গায় রেখে চলে আসবেন ৷

এখন চিন্তা করুন, আপনি এই সমগ্র কাজ পরিচালনা করলেন অর্থাৎ আপনি হচ্ছেন Processor ৷ আর লাইব্রেরীতে যে সকল বইগুলো আছে সেটা হলো ROM. কারণ বইতে যা আছে সেটা চেঞ্জ হবে না ৷ আর আপনি বই পড়লেন সেটা হলো RAM এর কাজ, অর্থাৎ ক্ষণস্থায়ী কাজ ৷ আপনি নিশ্চয়ই লাইব্রেরী থেকে বগলদাবা করে বই নিয়ে চলে আসবেন না!!  কারণ আপনি শুধু পড়তেই গিয়েছিলেন ৷ পড়া শেষ, আপনার কাজও শেষ ৷ অর্থাৎ RAM এর কাজ শেষ ৷

আমার কথাও শেষ ৷ 
সবাই ভাল থাকবেন ৷ সমগ্রের পাশে থাকবেন ৷ ধন্যবাদ ধৈর্য্য ধরে এতক্ষণ পড়ার জন্য ৷

মন্তব্যসমূহ