শেয়ার

২০১৬ সালের Smart Phone গুলোতে যে সকল ফিচার যুক্ত হলে চলেছে

মোবাইল ফোন মানেই নিত্য নতুন প্রযুক্তি আর সুবিধা। বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানী গুলো তাই প্রতিনিয়ত চটকদার বিজ্ঞাপন আর অসাধারণ সব ফিচার নিয়ে হাজির হয় প্রতি বছর। স্যামসাং, আইফোন, নকিয়া, মাইক্রোসফট, এল জি, সনি থেকে শুরু করে হালের জনপ্রি হুয়াওয়ে, শাওমিও এখন কারো থেকে কম যায় না।

আজকে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ২০১৬ সালের স্মা্র্টফোন গুলোতে কোন কোন প্রযুক্তি যুক্ত হলে চলেছে:

ওয়্যারলেস চার্যিং

মোবাইল ফোনে এই প্রযুক্তি চালু করে কোরিয়ান জায়ান্ট স্যামসাং। মোবাইল চার্যিং পোর্টে না লাগিয়ে কিভাবে শুধুমাত্র একটা চার্যার প্যাডের উপর মোবাইল রেখে চার্য দেয়া যায় এটা দেখিয়েছে স্যামসাং। ২০১৫ সালের স্মার্ট গ্যাজেট Galaxy S6 এবং Galaxy S6 Edge এ স্যামসাং এই প্রযুক্তি লঞ্চ করেছে। আর এই পদাঙ্ক অনুসরণ করছে এখন প্রায় সব মোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান-ই।

হেডফোন জ্যাক মাইনাস ফর্মূলা

মা্ইনাস ২ ফর্মুলা শুনেছেন, হেডফোন জ্যাক মাইনাস ফর্মূলা আবার কি? আইফোন ঘোষণা দিয়েছে তাদের পরবর্তী আইফোন গুলোতে ৩.৫ মিলিমিটার অডিও জ্যাকপোর্ট থাকবেনা। তার বদলে ব্যবহুত হবে ব্লু-টুথ ইয়ার পিস। যদিও অনেক ইউজার এইটার প্রতিবাদ করেছে। তবে এইটা হলে খারাপ হয়না, কি বলেন আপনারা?

অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন স্টোরেজ

একটা সময়ে যখন স্মার্টফোন কিনতাম বা দেখতাম, মোবাইলের ইন্টারনাল স্টোরেজ ছিলো কত, মনে আছে? ২ জিবি, ৪ জিবি, সবোর্চ্চ ৮ জিবি পর্যন্ত। শুধু মাত্র আইফোন গুলোতে ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ থেকে ৬৪ জিবি ভার্সন পাওয়া যেত।

আর এখন, মোবাইল হাতে নিলে ইন্টারনাল স্টোরেজ কমপক্ষে ১৬ জিবি। আর এখন তো ১৬ হাজার টাকার মোবাইলেও ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ পাওয়া যায়। এখন প্রতিটা স্মার্টফোন কোম্পানী-ই ইন্টারনাল স্টোরেজের পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছে।

HD Video’র অবনমন????

প্রশ্ন করতে পারবেন, HD Video’র অবনমন কিভাবে হলো? একটা সময়ে যখন মোবাইলে ভি জি এ ক্যামেরা ছিলো, তখন সেটা নিয়ে 3GP Format এর Video হতো, কোয়ালিটি ছিলো নিম্নমানের। পরে কালের বিবর্তনে সেটা ৭২০ পিক্সেল থেকে ১০৮০ পিক্সেলে ত্বরান্তিত হলো। আর সেটা আরো উন্নত হয়ে এখন 4K Video-পরিণত হয়েছে। ছবির মান, শব্দ থেকে শুরু করে সকল কিছুই উন্নতি হয়েছে 4K Video আসার ফলে। আর এখন প্রায় সকল উন্নত স্মার্টফোনেই 4K Video সুবিধা দেয়া হচ্ছে। শুধু কি তাই? সনি তো তাদের পরবর্তি ডিভাইসে 4K Display ব্যবহার করবে।

3D Touch Display

আইফোন সর্বপ্রথম মোবাইলের ডিসপ্লেতে 3D Touch প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। iphone 6s & iphone 6s+ এ এই সুবিধা রয়েছে। মূলত মোবাইলের যে কোন এপস./ছবি কে টাচ করে ধরে রাখলে সেখান থেকেই বেশ কিছু কাজ করার ফাংশন আসবে। শুধু তাই না, ছবির উপরে ক্লিক করলে সেই ছবিটা অনেকটা জীবন্ত হয়ে উঠবে। এটাকে Pressure Sensitive Diplay-ও বলে। galaxy S7 সিরিজে স্যামসাংও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করবে বলে জানা গেছে।

ডুয়াল ডিসপ্লে

মোবাইলের একটা ডিসপ্লেই ঠিক মত কেয়ার করতে পারিনা আবার ডুয়াল ডিসপ্লে। আপনাদের কি মটোরোলা’র রেজার সিরিজের মোবাইল গুলোর কথা মনে আছে? ফ্লিপ মোবাইল। মোবাইল ফোল্ডিং করলে মোবাইলের পেছনে একটা নোটিফিকেশন ডিসপ্লে ছিল। এইটা এখন আরো নতুন মোড়কে আসছে। LG ইতিমধ্যেই তাদের নতুন মোবাইল LG v10 এর ডুয়াল ডিসপ্লে যুক্ত করেছে।

রেটিনা স্ক্যান

ফিঙ্গারপ্রিন্ট হালের জনপ্রিয় একটি ফোন লক সিস্টেম। এটা নিরাপদ এবং ঝামেলা বিহীন। কিন্তু এর পাশাপাশি রেটিনা স্ক্যানিং এর কথা বেশ কিছুদিন ধরেই শোনে যাচ্ছে। মাইক্রোসফট এর লুমিয়া সিরিজের কয়েকটি মোবাইলে রেটিনা স্ক্যানিং প্রযুক্তি রয়েছে। তবে স্যামসাং, সনি এবং এলজিও এই পযুক্তি আনার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

Revolutionary Camera

আমি যখন প্রথম স্মার্টফোন কিনি, তখন সেটার ক্যামেরা ছিলো ৩.২ মেগাপিক্সেল (স্যামসাং গ্যালাক্সি পপ)। বলা বাহুল্য, সেই মোবাইলের কোন সেলফি ক্যামেরা ছিলো না। আর এখন, সেলফি ক্যামেরায় ব্যবহার করা হয়ে ১৩ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। তাহলে একবার ভাবুন রিয়্যার ক্যামেরায় কি ধরনের প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে!!!!!!!!

আজকে এই পর্যন্তই। আবারো হাজির হবো আপনাদের সামনে, নতুন নতুন স্মার্ট গ্যাজেট আর এ্যন্ড্রয়েড নিউজ নিয়ে।

 

 

 

মন্তব্যসমূহ