শেয়ার

Walpad 8X হ্যান্ডস অন রিভিউ

এখনকার যুগ স্মার্টফোনের যুগ। বলতে গেলে প্রায় প্রতিদিনই নতুন নতুন স্মার্টফোন আসছে বাজারে। এত স্মার্টফোনের ভিড়ে অনেক সাধারণ ইউজার রাই বিপাকে পরে যান কোন স্মার্টফোনটি কিনলে ভাল হবে। আর তখন তাদের সাহায্য করতেই আমরা আমাদের হ্যান্ডস অন রিভিউ নিয়ে এগিয়ে আসি। আমরা আমাদের রিভিউ এ কোন একটা সেটের ভাল ও খারাপ দিক তুলে ধরতে চেষ্টা করি। আর সেই চেষ্টার ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের জন্য নিয়ে এলাম Walton ব্র্যান্ডের Tab Walpad 8X এর হ্যান্ডস অন রিভিউ। প্রতিবারের মতই এবারো আমরা এই সেটটির ডিজাইন, পারফর্মেন্স, ক্যামেরা পারফর্মেন্স, স্পেশাল ফিচারস প্রভৃতি নিয়ে সচিত্র আলোচনা করব। তো চলুন শুরু করা যাক! 🙂

IMG_20150122_143650

স্মার্টফোনের জগতে Tab এর আবির্ভাব মূলত বড় ডিসপ্লের কথা মাথায় রেখে। Walpad 8X এও তাই ৮ ইঞ্চি ডিস্পলে ইউজ করা হয়েছে। তাছাড়াও ডিসপ্লেতে OGS Retina Display এবং Corning Gorilla Glass এর মত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লে রেজুলেশন ২০৪৮*১৫৩৬। এতে আপনি পাবেন “Awesome” ভিউইং এক্সপেরিয়েন্স!!

IMG_20150122_143744

সেটটিতে ওয়াল্টন এর অন্যান্য বেশির ভাগ সেট এর মত মিডিয়াটেক চিপসেট ইউজ করা হয়েছে। এছাড়া এতে ১.৭ গিগা হার্জ এর অক্টাকোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে র‍্যাম হিসেবে ২ জিবি র‍্যাম ও রম হিসেবে ১৬ জিবি রম দেওয়া হয়েছে। সেটটির জিপিইউ হিসেবে রয়েছে Mali450MP। আপনারা এই ট্যাবের কনফিগ দেখে বুঝতেই পারছেন, কেবল গেমিং পারফর্মেন্স এর দিক দিয়ে নয়, যেকোন কাজের দিক দিয়ে এই ট্যাবের পারফর্মেন্স হবে দেখার মত!!!! 🙂

pis2

এই সেটের রিয়ার ক্যামেরা হিসেবে CMOS সেন্সর সম্বলিত ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ২ মেগা পিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। তবে সফটওয়্যার এর সাহায্যে রিয়ার ক্যামেরা ৮ মেগাপিক্সেল করা যায়! তাছাড়া অটোফোকাস টেকনোলজি এর কারণে ছবি তোলার মজাই পাবেন আলাদা। ফাস্ট ক্যাপচারিং এই সেটের ক্যামেরার অন্যতম বৈশিষ্ট। তবে সেটটিতে কোন ফ্ল্যাশ নেই! যা সাধারণ ইউজার দের জন্য খুবই কষ্টের কথা!!! তাছাড়া এর ফ্রন্ট ক্যামেরার ক্যাপচারিং এংগেল ও খুব ভাল। এটিও সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ৩.১ মেগাপিক্সেল করা যায়।

IMG_20150122_143625

এই সেটটিতে ৩২ জিবি পর্যন্ত এক্সটারনাল এস ডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে। আর তাছাড়া ১২জিবি+ ইন্টারনাল স্টোরেজ তো রয়েছেই। সো, আনলিমিটেড মাল্টিমিডিয়া এক্সপেরিয়েন্স!!!

তাছাড়া এতে রয়েছে USB OTG(On The Go) ও OTA(Over The Air) আপডেট সুবিধা। 🙂

অনেক কথা বলে ফেললাম! চলুন, আর কথা না বাড়িয়ে এই ফোনের সকল ফিচারস ও হার্ডওয়্যার সম্পর্কে আরো ডিটেইলস এ জানি।

Walpad 8X Tab’s Key Features:

Walpad 8X Tab টির মেইন ফিচারস গুলো হলঃ

* অপারেটিং সিস্টেম এন্ড্রয়েড কিটক্যাট ৪.৪.২
* সিংগেল মাইক্রো সিম কার্ড স্লট
* ৮ ইঞ্চি IPS OGS Retina QXGA Display , রেজুলেশন ২০৪৮*১৫৩৬।
* MT8392 চিপসেট।
* ১.৭ গিগাহার্জ ARMv7 আর্কিটেকচার এর অক্টাকোর প্রসেসর।
* ২ জিবি র‍্যাম
* ১৬ জিবি রম
* Mali450MP জি পি ইউ।
* CMOS সেন্সর সম্বলিত ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা।
* ২ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা।
* অ্যাক্সেলারো মিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর।
* ৫০০০ MAh এর লিথিয়াম আয়ন পলিমার ব্যাটারি!!!
* স্পেশাল ফিচারসঃ OTA Update, USB OTG

তো চলুন, এবার স্টেপ বাই স্টেপ সেটটির হ্যান্ডস অন রিভিউ দেখে নেয়া যাক।

সেটটির সাথে যা যা থাকছে:

Walpad 8X Tab টির সাথে যা থাকছেঃ

১. ৫০০০ MAh এর লিথিয়াম আয়ন পলিমার ব্যাটারি
২. চার্জার অ্যাডাপ্টার
৩. ডাটা ক্যাবল
৪. ওটিজি ক্যাবল
৫. ইয়ারফোন
৬. ইউজার ম্যানুয়াল
৭. ওয়ারেন্টি কার্ড
৮. একটি এক্সট্রা স্ক্রিন প্রটেক্টর

অপারেটিং সিস্টেম:

এই সেটটিতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশ এ বহুল প্রচলিত ও এস এন্ড্রয়েড কিটক্যাট ৪.৪.২ ব্যবহার করা হয়েছে।

Kitkat Prop Kk

বিল্ড কোয়ালিটি, ডিজাইন ও স্টাইল:

Walpad 8X Tab টির ডিজাইন ও বিল্ড কুয়ালিটি আসলেই খুব ভাল! এই সেটটির আকার বিশাল হওয়া সত্ত্বেও এর পুরুত্ব ও ওজন তুলনা মূলক ভাবে অনেক কম। এই সেটটির এজ বা কোণা গুলো সুন্দর ভাবে রাউন্ডেড করা হয়েছে, যার ফলে এতে চার কোনা বক্সের মত ভাব টা থাকে নি।

pis

Tab টির উপরের দিকে রয়েছে পাওয়ার বাটন। নিচের দিকে রয়েছে ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক পোর্ট ও ২.০ ইউ এস বি পোর্ট। সেটটির বাম পাশে নিচের দিকে রয়েছে সিংগেল ম্যাক্রো সিম কার্ড স্লট ও এক্সটারনাল মেমোরি কার্ড স্লট। এতে সিমকার্ড স্লট ও এস ডি কার্ড স্লট বাইরের দিকে হওয়ায় এগুলো ইনসার্ট করার জন্য ব্যাটারি খোলার প্রয়োজন পড়বে না। 🙂

Side Down & up Design

এই সেটটিতে কোন হার্ড ভলিউম কন্ট্রোল কী নেই। বরং এতে নেভিগেশন বারে সফট কি হিসেবে ভলিউম আপ ও ডাউন বাটন দেওয়া হয়েছে। 🙂

IMG_20150122_143751

সেটটির পিছনের দিকে উপরে রয়েছে সেটটির রিয়ার ক্যামেরা। নিচের দিকে স্পীকার ও সাউন্ড ক্যাপচারার রয়েছে। সেটটির সামনের দিকে উপরে হেডপিস ছাড়াও ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা , লাইট ও প্রক্সিমিটি সেন্সর দেওয়া হয়েছে।

Front Back

Walpad 8X Tab এর উচ্চতা ২০০ মিমি, প্রস্থ ১৩৫ মিমি ও পুরুত্ব ৭.৯ মিমি। ব্যাটারি সহ ট্যাব টির ওজন ৩৫৫ গ্রাম!!!!

Height Weight

ডিসপ্লেঃ

Walpad 8X Tab এ ডিসপ্লে হিসেবে ৮ ইঞ্চি IPS Display ব্যবহার করা হয়েছে। ডিসপ্লে রেজুলেশন ২০৪৮*১৫৩৬। Walpad 8X এর ডিসপ্লে তে OGS(One Glass Solution) টেকনোলজি ব্যবহারের ফলে সেটটির ডিসপ্লে আরো পাতলা হয়েছে, যার ফলে ওভার অল Tab টির পুরুত্ব কমেছে। তাছাড়া রেটিনা ডিসপ্লে ইউজ করার ফলে এতে আরো ক্লিয়ার গ্রাফিকাল আউটপুট পাবেন। সেটটির ডিসপ্লের পিক্সেল ডেনসিটি 320 dpi(Dots Per inch)। এছাড়া Walpad 8X এ স্ক্রিন প্রটেক্টর হিসেবে কর্নিং গরিলা গ্লাস ব্যবহার করা হয়েছে।

pis

ওয়াল্টন তাদের অফিসিয়াল সাইট এ সাধারণ ডিসপ্লে ও তাদের রেটিনা ডিসপ্লে এর তফাৎ বুঝাতে নিচের ছবি টি ব্যবহার করেছে।

Display Compare

বরাবরের মত এই সেটটিতে ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রিন ইউজ করা হয়েছে। এতে ৫ আঙ্গুল পর্যন্ত মাল্টিটাচ সাপোর্ট করে।

MultiTouch

ইউজার ইন্টারফেস:

এই সেটটির ইউজার ইন্টারফেস অত্যন্ত চমৎকার।  এই সেট এর লাঞ্চার এর ট্রানজিশন খুব ই স্মুথ। এতে কোন প্রকার ল্যাগ নেই। এই সেটটির নোটিফিকেশন বার সিম্পল এন্ড্রয়েডের নোটিফিকেশন বার এর মতই।

Home Menu Status Bar

এই সেটটির আরেকটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এতে ক্যাপাসিটিভ টাচ কি এর বদলে নেভিগেশন বার ব্যবহার করা হয়েছে। ভলিউম রকারস এর হার্ড কিগুলোর বদলে এই বাটন গুলোও নেভিগেশন বারে এড করা হয়েছে।

Home

প্রসেসর:

প্রসেসর হিসেবে এই Tab এ ১.৭ গিগাহার্টজ ক্লক স্পীড এর আটটি কোরের প্রসেসর দেওয়া হয়েছে। দ্রুতগতির প্রসেসর ব্যবহৃত হওয়ায় এই ফোনে মাল্টিটাস্কিং, এইচডি গেমিং প্রভৃতি বেশ স্মুথলি করা যায়। এছাড়া যে কোন প্রসেসিং এর কাজ খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়।

জিপিইউ:

এতে জিপিইউ হিসেবে মালি ৪৫০ এম পি ব্যবহৃত হয়েছে। এই জিপিইউ অনেক শক্তিশালী এবং বেশির ভাগ এইচ ডি গেম ও ভিডিও প্লে করার জন্য এটি খুবই চমৎকার পার্ফরমেন্স দেয়। এর জিপিইউ এর ক্ষমতা আপনারা এর নেনামার্ক টেস্ট দেখলেই বুঝবেন।

চিপসেট :

Walpad 8X এ চিপসেট হিসেবে মিডিয়াটেক এর MT8392 ব্যবহার করা হয়েছে।

Hardware (1) Hardware (2) Hardware

র‍্যাম:

Walpad 8X এ র‍্যাম হিসেবে ২ জিবি র‍্যাম ব্যাবহার করা হয়েছে। সেটটিতে এই ২ জিবি র‍্যাম খুবই ভাল ব্যাকআপ ই দেয়। অবশ্য প্রোপার ব্যাকআপ পাওয়ার জন্য ইউজার এর সতর্কতাও প্রয়োজন।

Ram

রম ও মেমোরি :

এই সেট এ ১৬ জিবি স্পেস রম হিসেবে দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে ১২জিবি+ রাখা হয়েছে এপ্স ইন্সটল এবং ফোন স্টোরেজ এর জন্য!!!!! অর্থাৎ এতে অনেক এপ্স ইন্সটল করলেও স্পেস শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। বাকিটা সিস্টেম রিজার্ভড। এক্সট্রা এস ডি কার্ড হিসেবে আপনি এতে ৩২ জিবি মাইক্রো এস ডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

Internal Storage Phone Storage

ক্যামেরাঃ

Walpad 8X এ রিয়ার ক্যামেরা হিসেবে ৫ মেগাপিক্সেল এর CMOS সেন্সর সম্বলিত ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। যা, সফটওয়্যার এর মাধ্যমে ৮ মেগাপিক্সেল ও করা যায়। এর সাহায্যে পর্যাপ্ত আলোতে যথেষ্ট ভাল ছবি তোলা যায়। তাছাড়া এর ক্যাপচারিং স্পীড ও ভাল। এছাড়া অটোফোকাস টেকনোলজি থাকায় আপনার ছবি তোলার এক্সপেরিয়েন্স হবে আরো ভাল। চলুন আমরা এই সেটের ক্যামেরা দিয়ে তোলা একটা ছবি দেখিঃ

Cam Sample_Walpad 8x

তাছাড়া Walpad 8X এর ফ্রন্ট ক্যমেরাও যথেষ্ট ভাল। এতে সেলফি তুলে আপনি সন্তুষ্ট থাকতে পারবেন।

মাল্টিমিডিয়া :

এই সেটটিতে ৩.৫ মিলিমিটার এর অডিও জ্যাক পোর্ট দেওয়া আছে। সেটটির সাথে যে হেডফোন টি দেওয়া থাকবে সেটার অডিও কোয়ালিটি আমার কাছে খুব ভাল লেগেছে। এর সাহায্যে এফ এম বা মিউজিক শুনে খুব ভাল লাগল। তাছাড়া, সেট এর সাউন্ড কোয়ালিটি ও ভাল।

তাছাড়া এই সেট এ ১০৮০পি ভিডিও ও ল্যাগহীন ভাবে চলে। Retina Display থাকায় HD ভিডিও দেখে আলাদা মজা পাবেন।

গেমিং :

এখনকার দিনে গেমিং হল যে কোন এন্ড্রয়েড সেট কেনার একটি অন্যতম উদ্দেশ্য। তাই, আপনাদের কথা মাথায় রেখেই আমরা এই ট্যাব টিতে সাবওয়ে সারফার, এসফাল্ট ৮, মডার্ন কম্ব্যাট ৪ প্রভৃতি গেম রান  করে দেখেছি। গেমগুলা টোটালি স্মুথলি কোন ল্যাগহীন ভাবেই চালাতে পেরেছি আমরা। যদিও অক্টাকোর প্রসেসর,  ২ জিবি র‍্যাম ও মালি ৪৫০ এম পি জিপিইউ থাকায় আগেই বোঝা যায় যে গেম গুলো কোন ল্যাগ ছাড়াই চলবে! 🙂

Asphalt8_screen_2048x1536_65_V01

কানেক্টিভিটিঃ

এই ফোনে ব্লুটুথ ৪.০, ওয়াইফাই, ওয়্যারলেস হটস্পট, ওয়্যারলেস ডিসপ্লে শেয়ারিং প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। এছাড়া জিপিএস ও এজিপিএস নেভিগেশন সুবিধাতো রয়েছেই।

সিম:

এই সেট এর একটি দুর্বল দিক হল এতে একটি মাত্র সিম ব্যাবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সিম স্লট টি ২ জি / ৩ জি দুটোই সাপোর্ট করে। এই সেট এর সিম স্লট বাইরের দিকে দেওয়া হয়েছে। ফলে সিম খুলতে হলে আর মোবাইল বন্ধ করতে হবে না।

সেন্সর:

Walpad 8X এ অ্যাক্সেলারো মিটার, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর দেওয়া হয়েছে।

Sensors

ব্যাটারি :

এই সেটে ৫০০০ মিলি এম্পিয়ার এর লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি ব্যাবহার করা হয়েছে। এর ব্যাটারি ব্যাকআপ খুবই ভাল। এই বিশাল ব্যাটারির কারণে আপনি মোটামোটি অনেকক্ষন ট্যাব টি একটানা ব্যবহার করতে পারবেন। এর ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ ই নেই আপনার!! 🙂

বেঞ্চমার্ক টেস্টস:

সাধারণত কোন সেট এর বেঞ্চমার্ক টেস্ট করে সেটটির স্কোর দেখে তা ব্যবহার না করেই এর পার্ফরমেন্স সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। তো, আমরা তাই বেঞ্চমার্ক টেস্ট করার জন্য AnTuTu বেঞ্চমার্ক ব্যবহার করি। এতে এর স্কোর এসেছে ৩০৬৪৩। এটি খুব ই ভাল স্কোর, এবং এ স্কোর নিয়ে Walpad 8X, HTC One এর উপরে অবস্থান করছে!!

Antutu Score Sensors

নিচে Walpad 8x vs. HTC One এর চিত্র দেওয়া হলঃ

vs htc1

নিচে Walpad 8x vs. Xiaomi Redmi Note এর চিত্র দেওয়া হলঃ

vs Redmi note

নিচে Walpad 8x vs. Asus Zenphone 5 এর চিত্র দেওয়া হলঃ

vs Asus zen 5

নিচে Walpad 8x vs. LG G3 এর চিত্র দেওয়া হলঃ

vs LG g3

নিচে Walpad 8x vs. Google Nexus 5 এর চিত্র দেওয়া হলঃ

vs Nexus 5

Graphics টেস্ট করার এপ নেনামার্ক ২ তে এর স্কোর এসেছে ৫২.১। এই স্কোর টিই বলে দিচ্ছে এই সেট এ এইচডি গেম বা ভিডিও কোন ল্যাগ ছাড়া প্লে করা যাবে!!

Nenamark

ওটিজি:

Walpad 8X এ OTG(USB On The Go) সুবিধা থাকায় আপনি সেট এর সাথে দেওয়া ওটিজি ক্যাবল ব্যবহার করে আপনি এক্সটার্নাল হার্ডডিস্ক,  পেনড্রাইভ, মেমোরি  কার্ডরীডার, কীবোর্ড,  মাউস,  মডেম সহ আরো অনেক ইউ এস বি ইনেবলড ডিভাইস ইউজ করতে পারবেন।

OTG

ওটিএ:

OTA(Over The Air) আপডেট সুবিধার ফলে পিসির সাহায্য ছাড়াই আপনি আপনার সেট এর যেকোন প্রকার অফিসিয়াল সিস্টেম আপডেট ফোনের সাহায্যেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। কোন প্রকার সিস্টেম আপডেট চেক এর জন্য কাস্টোমার কেয়ার এও যোগাযোগ করতে হবে না! 🙂


OTA

 

মূল্য :

স্টাইলিশ ও খুবই ভাল কনফিগারেশন এর এই ট্যাবের দাম ওয়াল্টন কর্তৃপক্ষ ১৭৯৯০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেটের কনফিগারেশন ও স্টাইল অনুযায়ী এই দাম পারফেক্ট! যদিও সাধারণ ক্রেতদের কাছে এই দামটি বেশি বলে মনে হতে পারে, কিন্তু এই সেটের পারফর্মেন্স ও স্টাইল বিবেচনা করলে দামটি যথার্থ বলেই মনে হবে।

Walpad 8X এর ভাল লাগা কিছু দিকঃ
* এর রেটিনা ডিসপ্লে।
* কর্নিং গরিলা গ্লাসের ব্যবহার।
* অসাধারণ ব্যাটারি ব্যাকআপ।
* ভলিউম হার্ড কী এর বদলে সফট কী এর ব্যবহার।
* OTG সুবিধা
* OTA আপডেট সুবিধা।
* ভাল পারফরমেন্স
* মেমোরি ও সিম কার্ড স্লট বাইরের দিকে থাকা।

খারাপ লাগা কিছু দিকঃ
* সিঙ্গেল সিম সাপোর্ট।
* রিয়ার ক্যামেরায় কোন প্রকার ফ্ল্যাশ না থাকা।

শেষ কথা:

খুবই ভাল পারফরমেন্স ও স্টাইলিশ এই সেটটির দুয়েকটি সীমাবদ্ধতা ছাড়া আর কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া ট্যাব এর মূল ধারা বজায় রেখে এতেও ব্যাবহার করা হয়েছে বিশাল এবং উন্নত টেকনোলজি সমৃদ্ধ ডিসপ্লে। তাই যারা এই বাজেটে ট্যাব কিনার কথা ভাববেন , Walpad 8x তাদের প্রথম এবং প্রধান সিদ্ধান্ত হওয়া উচিৎ!

Pic5

ওয়াল্টন বর্তমানে বিভিন্ন সেলফোন এর পাশাপাশি ট্যাব নির্মাণেও কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে। আগে থেকেই কম দামে স্মার্টফোন এনে ওয়াল্টন স্মার্টফোনের বাজারে সাড়া ফেলেছে। এখন কম দামে আরো ট্যাব এনে ট্যাব প্রেমীদেরও ওয়াল্টন খুশি করবে বলে আশা করা যাচ্ছে!!! 🙂

ধন্যবাদ!

মন্তব্যসমূহ