শেয়ার

আপনার প্রাইভেট ডেটা, যা ম্যালওয়্যার থেকে শুরু করে গুগলও- সকলেই পেতে চায়। আর এর জন্য ফিজিক্যালি আপনার ফোনে একসেস না থাকলেও চলে, শুধু লাগে কানেকটিভিটি। সিকিউরিটি এক্সপার্টরা বলেন, টেকনোলজির এই বিস্তৃত পরিধিতে আপনি আপনার প্রাইভেট ডেটাকে খুব কমই ১০০% সিকিউর করতে পারেন, বা কখনই তা ১০০% সিকিউর হয় না, সেটা আপনার ফোনেই হোক, কম্পিউটারেই হোক বা ক্লাউডেই হোক না কেন। যারা সত্যি আর সত্যিই আপনার ডেটা পেতে চায় তারা কোন না কোন ভাবে সেটা পেয়ে যেতে পারে, তাই এক্ষেত্রে আপনার সবচেয়ে ভাল ডিফেন্স হবে আন-ইন্টারেস্টিং ভাবে আপনার সব ডেটা রাখা, যাতে কেউ সেটার দিকে গুরুত্ব না দেয়, আর সেই সব ব্যাবস্থা নিতে পারেন যেগুলো আপনার পক্ষে নেওয়া সম্ভব।

 

এনক্রিপশন (Encryption) কি আর কেনঃ

 

এনক্রিপশন এন্ড্রয়েড সিকিউরিটির একটা অংশ। জানা গেছে এন্ড্রয়েড ৫.০ ললিপপে এই এনক্রিপশন বাই ডিফল্ট এনাবল করা থাকবে। কিন্তু এর নিচের ভারসনগুলোর কি হবে- হ্যাঁ, এগুলোতে আপনাকে ম্যানুয়ালি এটা এনাবল করে নিতে হয় যদি আপনি সত্যিই তা করতে চান।

 

একেবারে সাধারন কথায়, এনক্রিপশন হল আপনার ফাইল সিস্টেমের ওপর একটা এক্সট্রা সিকিউরিটি লেয়ার। এই লেয়ারের ফলে কেউ যদি আপনার ফোন পেয়েও যায় তাহলে সাথে সাথে ফোন স্টোরেজের কোন কিছু কপি করে নিতে পারবে না, কোন কম্পিউটারে কানেক্ট করেও না। তার জন্য আগে সব ডেটাকে ডিক্রিপ্ট (Decrypt) করতে হবে।

 

ডেটা ডিক্রিপ্ট করার ক্ষেত্রে এনক্রিপশন কি (Key) হল একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। এই কি ছাড়া আপনার প্রোটেক্টেড ডেটা ইউজলেস। এই কি দ্বারাই আপনার এনক্রিপ্টেড ডেটাকে ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব। এটা এই কি-এরই কাজ- সঠিক ইউজারের জন্য ডেটা ডিক্রিপ্ট করা আর কোন আন-অথরাইজড একসেস প্রতিরোধ করা।

 

এই কি এত গুরুত্বপূর্ণ যার কারণে গুগল এটার দিকে ভালভাবে খেয়াল রাখে যেন এটি ফোন থেকে কোনভাবে তাদের কোন সার্ভারে আপলোড না হয়, এই কি সম্পূর্ণভাবে নির্দিষ্ট ডিভাইস ভিত্তিক।

 

 

এনক্রিপশন কিভাবে কাজ করেঃ

 

প্রথমত, ডিভাইস এনক্রিপশনের জন্য আপনাকে আগে আপনার ডিভাইস পিন বা পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে। এটা ছাড়া ডিভাইস এনক্রিপ্ট করার কোন মানে হায়না। কারণ কেউ যদি আপনার ডিভাইসে একসেস করতে পারে তাহলে সে কোন ফাইল ম্যানেজারে গিয়ে আপনার ডেটা সহজেই কপি করে নিতে পারবে, এনক্রিপশন এনাবল করার পরেও। আর যদি আপনার ডিভাইসে পিন বা পাসওয়ার্ড সেট করা থাকে তাহল এনক্রিপ্টেড ডেটা কম্পিউটারে কানেক্ট করেও কেউ আপনার ফাইল সিস্টেম থেকে ডেটা করতে পারবে না। সাধারণ লক স্ক্রিন আর লক+এনক্রিপ্টেড ফোনের পার্থক্য এখানেই।

 

দিত্বীয়ত, কিছু কিছু ডিভাইসে এনক্রিপশন কাজ করে শুধু ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজের ক্ষেত্রে, মাইক্রো এসডি স্টোরেজে এর কোন ইফেক্ট হয় না, এক্সটার্নাল স্টোরেজ সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

 

আবার আধিকাংশ ডিভাইসে এনক্রিপশন আর ডিভাইস লক এনাবল করার পর ফোন বুট হওয়ার পর সাথে সাথে আপনার পিন বা পাসওয়ার্ড ইনপুট করতে হবে, তাছাড়া এটা কাজ করবেনা।

 

যেভাবে এনক্রিপশন সেট করবেন (এন্ড্রয়েড ৪.১+):

 

আপনার ডিভাইস স্টরেজের উপর ভিত্তি করে সম্পূর্ন এনক্রিপশন এনাবল করতে যথেষ্ট সময় লাগে। এটা প্রায় ৩০ মিনিট থেকে দেড় ঘন্টার ব্যাপার। তাই শুরু করার আগে অবশ্যই ফোনে পূর্ণ চার্জ করে নেবেন বা চার্জার কানেক্ট করে কাজ করবেন।

১. প্রথমে Settings > Security > Screen Lock এ গিয়ে পিন বা পাসওয়ার্ড লক এনাবল করুন।

Encry1 Encry2

২. এবার Security থেকে Encrypt Phone সিলেক্ট করুন। আপনি যদি SD Card এনক্রিপ্ট করার অপশন দেখতে পান, সেটা সিলেক্ট করে দিন।

Encry3

৩. Next এ সিলেক্ট করে অথেনটিকেশনের জন্য আপনার Pin/Password দিন।

Encry4

৪. এবার অপেক্ষা করুন সম্পূর্ণ এনক্রিপশন প্রসেস কমপ্লিট হওয়া পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ডিভাইস কয়েকবার রিস্টার্ট হতে পারে।

৫. সব কিছু নিজ দায়িত্বে করুন :p

 

এখানে জেনে রাখা ভাল যে এনক্রিপশন ডিজএবল করার কাজটা কিন্তু সহজ নয়, এতে আপনার ফোন ফ্যাক্টরি রিসেট করার দরকার পড়বে।

 

এনক্রিপশনের নেগেটিভ ইফেক্টঃ

 

এন্ড্রয়েডেএর এই এনক্রিপশন যতটা সহজ দেখায় ততটা সহজ নয়, বরং অনেক কমপ্লিকেটেড। পুরাতন মডেল বা লো কনফিগারেশনের কিছু কিছু ফোন এনক্রিপ্ট করার পর স্লো হয়ে যেতে পারে, ব্যাটারি লাইফেও নেগেটিভ ইফেক্ট হতে পারে। কিন্তু নতুনতর ফোনগুলোতে আর মোটামুটি মিড-রেঞ্জ থেকে হাই-এন্ড ফোনগুলোতে এসব হবেনা, কারণ এগুলোতে একটি বিশেষ ধরনের এনক্রিপশন একসেলারেশন টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। এই এনক্রিপশনের মাধ্যমে আপনার ফাইল সিস্টেমে আন-অথরাইজড একসেস অত্যন্ত জটিল, কষ্টসাধ্য বা প্রায় অসম্ভব হলেও এটা একেবারে ১০০% ইম্পসিবল নয়, যেমনটি শুরুতেই বলেছি।

 

এন্ড্রয়েড ডেভলপারদের অফিশিয়াল সাইটে এই এনক্রিপশন নিয়ে আরো অনেক এবং সম্পূর্ণ ডিটেইলস পাবেন, সেটা পড়ে নিয়ে কাজ করা ভালো।

 

তো এভাবে আপনি আপনার ফোন এনক্রিপ্টেড করতে পারেন। তবে সাধারণ ইউজারদের এটা করার তেমন কোন দরকার পড়বে না। একজন এডভান্স ইউজার হিসাবে আমিও এটা ব্যবহার করিনা, খুব বেশি কাউকে ব্যবহার করতেও দেখিনি। কারণ আমরা এমন কোন হাই প্রোফাইল ব্যাক্তিত্ব না যে আমাদের কোন তথ্য লিক হয়ে গেলে আমাদের দুনিয়া খতম হয়ে যাবে- এই এনক্রিপশন বিশেষভাবে তাদের জন্যই। ওই যে বললাম, এমনভাবে ডেটা রাখবেন যেন কেউ সেটার দিকে বেশি গুরুত্ব না দেয়। আর তাছাড়া- বিভিন্ন অ্যাপ/ফাইল লকার তো আছেই।

 

Secrecy একটি ফ্রি, ওপেন সোর্স কার্যকর ডেটা প্রোটেকশন অ্যাপ্লিকেশন। এই অ্যাপের মাধ্যমে আপনি এতে যত খুশি তত পাসওয়ার্ড প্রোটেক্টেড ভল্ট তৈরি করতে পারবেন যেগুলোতে আপনি আপনার লোকাল ফাইল স্টোরেজ আর গুগল ড্রাইভের যে কোন ধরনের ডেটা, মিডিয়া ফাইল সংরক্ষণ করতে পারবেন। এই অ্যাপটির সুবিধা হল, এর ভল্ট প্রোটেকশন AES 256-Bit সিস্টেমে এনক্রিপ্টেড, যেটা বিভিন্ন ফ্যাক্টরি বা ইন্ডাস্ট্রি আর এন্ড্রয়েড কার্নেল স্ট্যান্ডার্ড।

Secrecy2 Secrecy3 Secrecy4 Secrecy5

সাধারণ ফাইল প্রোটেকশনের জন্য আপনি এই অ্যাপটি দেখতে পারেন, আমাদের জন্য এমন কিছুই যথেষ্ট।

মন্তব্যসমূহ