শেয়ার

Recovery Mode আসলে কি?

অনেকেই প্রশ্ন করেন রিকভারী মোড আসলে কি? আর রিকভারী মোড এর কাজ টাই বা কি? আসুন, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা আছে তা আপনাদের সাথে শেয়ার করি।

রিকভারী মোড অনেকটা কম্পিউটারের Bios Setup এর মত। যে কোন মোবাইলে খুবই সিম্পল একটা রিকভারী মোড দেয়া থাকে, কিন্তু এই রিকভারী মোড দিয়ে আপনি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবেন না। আর তাই অনেক ইউজার রা মোবাইল রুট করতে অনেকটা বাধ্য হন। মোবাইল রুট করার পর আসলে সব চাইতে জরুরী কাজ হয়ে পড়ে রিকভারী মোড ইন্সটল দেয়া। কেননা রিকভারী মোড ছাড়া কাষ্টম রম এবং রম ব্যাকাপ নেয়া যায়না। আর তাছাড়া ইচ্ছে করলেও রিকভারী মোড এ গিয়ে Flash দেয়া যায়না। আর তাই রুট করার পর সবচাইতে বড় কাজ হচ্ছে রিকভারী মোড ইনস্টল করা। তবে এই রিকভারী মোড ইনস্টল দেয়া কিন্তু খুব সহজ ব্যপার নয়। কিছু কিছু মোবাইলে রিকভারী মোড ইনস্টল দেয়া পানির মত সহজ। Walton এর সেট গুলোতে রিকভারী মোড ইনস্টল দেয়া খুবই সহজ। Samsung mobile গুলো রম ম্যানেজার দিয়ে দিয়ে রিকভারী মোড ইনস্টল করা যায়।আবার সিম্ফনির বেশিরভাগ মডেল আছে যে গুলা রুট তো দূরে থাক, কাস্টম রম, রিকভারী কিছুই পাওয়া যায়না। আমি সিম্ফনির অনেক মডেল দেখেছি যে গুলোর  জন্য ইউজার রা প্রতি নিয়ত গ্রুপে পোষ্ট করেন ” ভাই সিম্ফনি উমুক মডেলের cwm আছে?” অনেকটা বাধ্য হয়েই বলি “নাই”। আসলে মানা না করে উপায়ও থাকেনা। যেগুলা আছে সেগুলাও ঠিক মত কাজ করেনা, ফলে মোবাইল Soft Brick হয় (শুধু বুট লোগো তে মোবাইল হ্যাং থাকে বা আটকে থাকে)। আর এই কারণেই সঠিক CWM বা  TWRP রিকভারী ফাইল না বুঝে  কখনই ইনষ্টল দেবেন না।

রিকভারী মোড এর প্রয়োজনীয়তা:

রিকভারী মোড ইনষ্টল করা থাকলে  মোবাইলের sound, graphics এর সমস্যা খুব সহজেই সমাধান করা যায়। আবার ইচ্ছা করলে Flashable Zip দিয়ে ইচ্ছে মত মোবাইলের বুট লোগো পরিবর্তন করা যায়। আবার যদি আপনি আপনার Stock rom ব্যাকাপ নিতে চান তো রিকভারী মোড ছাড়া মোটেও ব্যাকাপ করতে পারবেন না। আবার কাষ্টম রম সেটাপ করতে চাইলেও রিকভারী মোড অবশ্যম্ভাবী। ধরুন আপনার মোবাইল Brick করছে (Soft Brick)। ধরুন, শুধুই লোগো আসছে, তখন কি করবেন? সেই ক্ষেত্রে যদি আপনার স্টক রম ব্যাকাপ দেয়া থাকে তো রিকভারী মোড এ গিয়েই ষ্টক রম ব্যাকাপ বা রিষ্টোর করতে পারবেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো যদি রিকভারী মোড ইনস্টল  না করা থাকে তাহলে ষ্টক রম ব্যাকাপ নিতে পারবেন না। আর রিকভারী ইনষ্টল করা হলে সবচাইতে বড় যেই কাজ করতে হবে সেটা হলো প্রথমেই আপনার ষ্টক রম ব্যাকাপ নিয়ে নিন। অনেক কিছু মোবাইলে Pre-added থাকেনা। দেখা যায় এক-ই মডেলের বিভিন্ন  মোবাইল সেট এর সাউন্ড কোয়ালিট এক রকম থাকেনা। আবার Same কনফিগ হলেও এক-ই গেম ল্যাগ করছে। আর তাই বিভিন্ন ডেভেলপার রা মোবাইল এর পারফরমেন্স বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন এপস তৈরী করেন। আর তারা যখন এই গুলো নিশ্চিত হন যে এই এপস গুলো মোবাইলের জন্য ক্ষতিকর না তখন ই তারা এই গুলো আপলোড করেন। XDA Developer এদের মধ্যে অন্যতম। তবে মোবাইলে এই গুলো সরা সরি ইনষ্টল করা যায়না। আর তাই মোবাইল রুট করে এই এপস গুলো ফ্ল্যাশ করতে হয় রিকভারী মোড এ গিয়ে। অনেকেই মোবাইলে HD games খেলতে পারেন না, র‌্যাম 1GB হওয়া সত্বেও HD games গুলো ল্যাগ করে বা হ্যাং করে। তখন কি করবেন? তখন আপনাকে বাধ্য হয়েই মোবাইল রুট করে রিকভারী মোড এ গিয়ে ফ্ল্যাশ করতে হবে। ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটা মোবাইল কিনেছেন কিন্তু ভাল গেমস খেলতে পারছেন না বা সাউন্ড কোয়ালিটি জঘন্য। এর জন্য কি আপনি মোবাইল নতুন করে কিনবেন? কয়জন কিনতে পারবে? যারা কিনতে পারেনা তারাই আফসোস বেশি করেন। আফসোস কেন করবেন? আফসোসের দিন শেষ। এখনই সময় মোবাইল রুট করে প্রথমেই রিকভারী মোড ইনষ্টল করে নিন। বিভিন্ন Flashable Zip ফাইল আছে যা রিকভারী মোড থেকে ফ্ল্যাশ করে মোবাইলের সাউন্ড বা গ্রাফিক্স প্রবলেম ঠিক করা যায়। আবার বলে নিচ্ছি, রুট করতে ভয় পেলে রুট করার কোন দরকার নেই। রুট করতে ২ মিনিটও লাগেনা। অনেকের ধারনা রুট করলে মোবাইল ব্রিক করার সম্ভাবনা আছে। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি রুট করলে মোবাইল মোটেই ব্রিক করার সম্ভাবনা নেই।

কিভাবে ইনস্টল করবেন রিকভারী মোড?

একেক মোবাইলের রিকভারী ইনস্টল একেক রকম। Samsung mobile গুলো রম ম্যানেজার দিয়ে দিয়ে রিকভারী মোড ইনস্টল করা যায়। আবার বেশিরভাগ মোবাইল Mobile uncle tools দিয়ে রিকভারী মোড ইনস্টল করতে হয়। এর জন্য সবচাইতে বড় কাজ হচ্ছে আপনার মোবাইলের এর মডেল অনুযায়ী রিকভারী মোড ডা্উনলোড করে Mobile uncle tools  দিয়ে ইনস্টল করে নেয়া। আবার যদি রিকভারী .img ফাইল আপনার মোবাইলের জন্য না হয়ে থাকে তাবে আপনার মোবাইল কিন্তু রিবুট নেয়ার পর বুট লাগোতেই আটকে থাকবে। কাজেই একদম নিশ্চিত না হয়ে রিকভারী ইনষ্টল করতে যাবেন না। প্রয়োজনে এক্সপার্টদের সহায়তা নিন।

রিকভারী মোড কয় ধরনের হয়?

রিকভারী মোড সাধারণত ২ ধরনের হয়। একটা হলো CWM (Clock Work Mode) আর অপরটা হলো TWRP (Team Win Recovery Project) একেকটা মোবাইলের রিকভারী ফাইল আলাদা হয়। বেশির ভাগ Brand Mobile এর রিকভারী মোড নেট এ সার্চ দিলেই পাওয়া যাবে। আর তাছাড়া XDA Developer ছাড়াও এখন অনেক মোবাইল ফোরামে পাওয়া যাবে। চলুন, এবার আপনাদের সুবিধার্থে TWRP আর CWM দেখতে কি রকম হয় দেখে নেই।

আপনার করণীয়:

মোবাইল রুট করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন আপনার মোবাইলের জন্য অনলাইনে কোনো রিকভারী মোড আছে কিনা। এটার জন্য আগেই বিভিন্ন গ্রুপ বা ওয়েব সাইটে ভিজিট করে নিন। একদম নিশ্চিত হয়েই রুট করুন। যদি রিকভারী মোড ইনস্টল করা না-ই যায় তবে রুট করার মজা পাওয়া যায়না। কাজেই আমার পরামর্শ থাকবে সবার কাছেই একদম নিশ্চিত না হয়ে কখনই রুট করবেন না। আগে জেনে নিন রিকভারী মোড ইনস্টল করা যাবে কি না।

আশা করি আপনাাদের উপকারে আসবে আমার এই লেখা গুলো। আর বিভিন্ন সমস্যা হলে আমাদের গ্রুপে পোষ্ট করুন অথবা কমেন্ট করুন।  ইন শা আল্লাহ যথাসাধ্য ভাবে সাহায্য করবো।

আমাদের গ্রপে জয়েন করুন এখানে। আর আমাদের পেজ সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।

মন্তব্যসমূহ